রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের ৬৩ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন একজন নারী শিক্ষার্থী।
শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী তাসিন খান ইতোমধ্যেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন এবং ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকে পেয়েছেন উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া। তবে ভোটের পরিবেশ নিয়ে কিছুটা শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
রাজশাহী শহরের বাসিন্দা তাসিন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার ভাষায়, মৃত্যুর ভয় জয় করার অভিজ্ঞতাই তাকে ভিপি পদে লড়াই করার সাহস দিয়েছে।
রাকসু ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৪টি নির্বাচনে কোনো নারী শিক্ষার্থী প্রার্থী হননি। দীর্ঘ ৩৫ বছরের ব্যবধানে আয়োজিত এবারের নির্বাচনে তাসিন হচ্ছেন একমাত্র নারী ভিপি প্রার্থী। ছাত্রী হলভিত্তিক কয়েকটি পদে আরও কয়েকজন ছাত্রী প্রার্থিতা করছেন।
প্রার্থী হওয়ার প্রেক্ষাপট নিয়ে তাসিন বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় একজন সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। তারপর যখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসি, ভাবলাম- এত বড় একটি ঐতিহাসিক সুযোগে নিজেকে উপস্থাপন করা উচিত।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব রয়েছে, কিছু সংগঠন সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। প্রশাসনের তৎপরতা এখনও আশানুরূপ নয়। নির্বাচন কমিশনের উচিত, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা যাতে প্রার্থী ও ভোটাররা নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে অংশ নিতে পারেন।
রাকসু নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে ২৪ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা ১ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর। আর বহুল প্রতীক্ষিত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। তাসিনসহ অন্যান্য প্রার্থীদের অংশগ্রহণে এবার নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে।
ইএ/টিকে