গতকাল (৩০ আগস্ট) রাতে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় গুরুতর আহত হনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। রক্তাক্ত অবস্থায় সেখান থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। বর্তমানে নুর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার জ্ঞান ফিরেছে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে তার ফেসবুক পেজ থেকে।
এদিকে, নুরের ওপর হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেনিপ্রেশার মানুষকেও সোশ্যাল মিডিয়ায় এ প্রসঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে। যার মধ্যে রয়েছেন জনপ্রিয় লেখক আমিনুল ইসলাম। তার মতে, আন্দোলনের ফসল ঘরে তোলা রাজনৈতিক নেতৃত্ব রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে সেই পুরনো এলিট কাঠামোর সেবক হয়ে উঠেছে।
তাই আজ নুরের মতো নেতারা মার খাচ্ছেন, বিপরীতে এলিট রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ভোগ করছেন সুবিধা।
আমিনুল ইসলাম লেখেন, ‘আমি শুধু ভাবছি সেই দিনের কথা। যখন উপদেষ্টা ফারুকীকে এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে করে কক্সবাজার থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়। আমার পরিচিত এলিটদের অনেককে দেখলাম- আহা-উহু করছে ফারুকীর জন্য।
অথচ এদের কাউকে গতকাল কিছু বলতে দেখলাম না। ফকিন্নির বাচ্চা ফকিন্নি নুরকে ঢাকার রাজপথে মেরে আইসিইউতে পাঠানো হয়েছে। রাশেদ নিজ মুখে বলেছে- ‘বিগত আমলেও কেউ এভাবে আঘাত করার সাহস পায় নাই।’ তাহলে এই আমলে কেন পেলো? কারন দোষটা আপনারা প্রথমেই করেছেন। এলিটদের যেই সরকার আপনারা করেছেন।
এরা কোনোদিন এই বাংলাদেশকে ধারণ করে নাই। আন্দোলন সফল না হলে ফারুকী আজও মনের আনন্দে সিনেমা বানাতো। তাঁর বউ মনের আনন্দে বিগত সরকারের লোকজনদের সাথে ঘুরে বেড়াতো এবং এক টাকায় সরকারের জন্য সিনেমা করতো।”
আমিনুল ইসলাম লেখেন, “অন্য সকল উপদেষ্টাদেরও একই অবস্থা। দুই একজন ছাড়া আর কেউ ২৪-এর আন্দোলনকে কোনোদিন ধারণ করে নাই। আমরা চেয়েছিলাম একটা শ্রেণী-বৈষম্যহীন সমাজ। আর পেলাম কী? একটা এলিটদের সরকার। শান্তির এই লোক, দেশটাকে আফ্রিকার দেশগুলোতে যেভাবে বিভিন্ন গোত্রের মানুষজন গৃহযুদ্ধে লিপ্ত; ঠিক সেই অবস্থায় নিয়ে গেছে। কেন-কীভাবে নিয়েছে? কারন এই সরকার তো আসলে দেশ চালাচ্ছে না। চালাচ্ছে একটা ছায়া সরকার। যাদের বাংলাদেশের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। তাই ফারুকীরা এয়ার এ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা পায়। আর ফকিন্নির বাচ্চারা? আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে চর্কির মত ঘুরতে থাকে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য।”
রাশেদের প্রসঙ্গ টেনে আমিনুল ইসলাম লেখেন, “একটা দৃশ্য আপনারা দেখেন নাই। কালকে কিন্তু রাশেদও আহত হয়েছে। প্রথমে সে-ই আহত হয়েছে। এরপর নিজেই মেডিকেলে গিয়ে চর্কির মত ঘুরতে ঘুরতে জিজ্ঞেস করছে- ‘২২ নাম্বার রুম কোথায়?’ কেউ তাকে দুই পয়সার মূল্য দেয় নাই। তবে ফারুকীরা এলিট। তাঁদেরকে সবাই স্যার স্যার বলে ঠিকই নিয়ে যেত। ভাববেন না-দোষটা ফারুকীদের। দোষটা ওই ছেলেদের। যারা সরকারে গিয়ে বিদ্যমান কাঠামোর ভেতরে থাকা এলিটদেরই সুবিধা দিয়েছে।”
হতাশা ব্যক্ত করে সবশেষে এই লেখক লিখেছেন, “আজ থেকে এক বছর আগে বলেছিলাম- কাঠামোর ভেতরে থাকা যাদের তোমরা সুবিধা দিচ্ছ। এরাই একদিন তোমাদের ছুড়ে ফেলে দেবে।
তোমরা তোমাদের কর্মফল পাচ্ছো। মাত্র তো শুরু। এই দায় তোমাদেরকেই নিতে হবে। আমাদের মত সাধারণ নাগরিকদের কাছে তোমাদের একদিন না একদিন এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে - কেন আজ দেশের এই অবস্থা হলো? কেন আমরা প্রতারিত হলাম? তোমরা সবাইকে শত্রু বানিয়ে ফেলেছো স্রেফ নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে। তোমরা বুঝতেও পারো নাই- এটি বিলীন হবার প্রক্রিয়া। তাই আবারো বলি - ফারুকীরা টিকে থাকবে। আর ফকিন্নির বাচ্চারা হারিয়ে যাবে। কারন তোমরা ফারুকী হতে চেয়েছো।”
এফপি/ টিকে