দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন দলটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা। এই বহিষ্কার আদেশটি তিনি পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনেই যাকে তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ও অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেছেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এসব অনুভূতির কথা জানান তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন তার রাজনৈতিক অভিভাবক, যার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেন এবং সেই আদর্শ অনুসরণ করেই দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তার মৃত্যু শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, বরং দেশ ও দলের জন্যও অপূরণীয় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন তিনি। খালেদা জিয়ার সঙ্গে শেষ দিকের একটি কথোপকথনের কথাও তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। জানান, গত ২৩ নভেম্বর খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে ২০ নভেম্বর তাদের কথা হয়েছিল, যেখানে খালেদা জিয়া জানতে চেয়েছিলেন কেন তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
বহিষ্কার সত্ত্বেও নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দাঁড়ানো মানে মূলত আপস না করে একা লড়াই করার সাহস দেখানো। এই মানসিকতাই তিনি তার নেত্রীর কাছ থেকে শিখেছেন বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, জোয়ারের বিপরীতে দাঁড়ানোর এই দৃঢ়তা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শেরই প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন রুমিন ফারহানা। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নিজে উপস্থিত হয়ে তিনি মনোনয়ন দাখিল করেন। একই আসনে বিএনপি তাদের জোটসঙ্গী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এবং খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এমকে/টিএ