নববর্ষের প্রাক্কালে দেওয়া ভাষণে তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূখণ্ডের সাথে পুনরায় একত্রিত করার কঠোর প্রতিজ্ঞা করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তাইওয়ানের চারপাশে নজিরবিহীন সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার ঠিক একদিন পরেই তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন।
বেইজিং থেকে দেওয়া বাৎসরিক ভাষণে শি জিনপিং বলেন, মাতৃভূমির পুন একত্রীকরণ বর্তমান সময়ের দাবি এবং এটি অপ্রতিরোধ্য। তিনি স্পষ্ট করে দেন, তাইওয়ানকে চীনের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা বেইজিংয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
চীন তাইওয়ানের চারপাশে 'জাস্টিস মিশন ২০২৫' নামে একটি বিশাল সামরিক মহড়া শেষ করেছে। এই মহড়ায় তাইওয়ানের প্রধান বন্দরগুলো অবরোধের অনুশীলন করা হয় এবং অন্তত ৮৯টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয়, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে রেকর্ড ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দারা আশঙ্কা করছেন, শি জিনপিং উপযুক্ত সময় মনে করলেই তাইওয়ানে হামলা চালাতে পারেন।
ভাষণে শি জিনপিং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন সামিটের কথাও উল্লেখ করেন।
এছাড়া গত সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষের ৮০ বছর পূর্তিতে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের ফুটেজও প্রচার করা হয়, যেখানে পুতিন ও কিম জং উন উপস্থিত ছিলেন।
শি জিনপিং জানান, চীনের অর্থনীতি ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সঠিক পথেই রয়েছে। এছাড়া তিনি চীনা প্রযুক্তির অগ্রগতি, যেমন- কিকবক্সিং রোবট এবং মহাকাশ অভিযানের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন।
এদিকে, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে চীনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছেন এবং তিনি তাইওয়ানের বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৩০-এর দশকে নাৎসি জার্মানির হুমকির মুখে থাকা ইউরোপের সাথে তুলনা করেছেন।
তথ্যসূত্র দ্য গার্ডিয়ান
আরআই/টিএ