ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মনিয়াম জয়শঙ্করে উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়েছেন পাকিস্তানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী নেতা মির ইয়ার বালোচ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে চিঠির সেই অনুলিপি পোস্টও করেছেন তিনি।
খোলা চিঠিতে মির ইয়ার বালোচ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জনগণকে ইংরেজি নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, গত বছর মে মাসে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও জঙ্গি ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর পরিচালিত অভিযান অপারেশন সিঁদুরের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং চীন ইস্যুতে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। চীনের হুমকি মোকাবিলায় ভারতের সঙ্গে বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী শক্তি একসঙ্গে কাজ করতে চায় বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।
চিঠিতে মির ইয়ার বালোচ লিখেছেন, “সম্মানিত ড. জয়শঙ্কর জী, রিপাবলিক অব বেলুচিস্তানের ৬ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে আমরা ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ, পার্লামেন্টের উভয়ক্ষ, সংবাদমাধ্যম, সুশীল সমাজ এবং সব সম্মানিত ব্যক্তিকে ইংরেজি ২০২৬ সালের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। ভারতের সঙ্গে বেলুচিস্তানের হাজার বছরের ঐতিহাসিক, সংস্কৃতিগত, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক, প্রতিরক্ষাসহ বহুমুখী বন্ধন রয়েছে। বেলুচিস্তানের হিংলাজ মাতার মন্দির এই বন্ধনের সবচেয়ে সেরা প্রমাণ।”
“পেহেলগামে জঙ্গী হামলার জবাব দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার গত বছর পাকিস্তানের জঙ্গি-সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপারেশন সিঁদুর নামে যে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল, আমরা সেই অভিযানকে পূর্ণ মাত্রায় সমর্থন জানিয়েছি। এই অভিযান ছিল দৃষ্টান্তমূলক সাহস, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারের এক অনন্য উদারহারণ।”
“বেলুচিস্তানের জনগণ গত ৭৯ বছর ধরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় দখলদারিত্ব, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ এবং মানবতাবিরোধী ভয়াবহ সহিংসতা সহ্য করছে। এখন সময় এসেছে এই ভয়াবহ নিপীড়ণবাদীদের সমূলে উচ্ছেদ করার এবং আমাদের জাতির সার্বভৌমত্ব ও স্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা অর্জন করার।”
“বেলুচিস্তানের জনগণের পক্ষ থেকে আমরা শান্তি, সমৃদ্ধি, উন্নয়ন, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, ভবিষ্যতের জ্বালানি চ্যালেঞ্জ এবং নিরাপত্তাজনিত গোপন হুমকি প্রশমনের মাধ্যমে বন্ধুত্ব, আস্থা এবং পারস্পরিক স্বার্থ বৃদ্ধিতে ভারত এবং তার সরকারের প্রতি আমাদের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি। আমরা মনে করি এখন আমাদের মধ্যকার বাস্তবিক এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সময় এসেছে। কারণ ভারত এবং বেলুচিস্তানের সামনে যে হুমকি আছে, তা প্রকৃত এবং আসন্ন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কার্যকর করা ব্যতীত এই হুমকির মোকাবিলা সম্ভব নয়।”
“কারণ আমরা লক্ষ্য করছি যে পাকিস্তান এবং চীনের মধ্যকার কৌশলগত জোট দিন দিন দৃঢ় হচ্ছে এবং এটি গভীরভাবে বিপজ্জনক। আমরা এই মর্মে আপনাদের সতর্ক করছি যে চীন ও পাকিস্তান সমন্বিত ভাবে চায়না পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর তৈরি করছে এবং বর্তমানে এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।”
“যদি বেলুচিস্তানের প্রতিরক্ষা ও স্বাধীনতা বাহিনীর সক্ষমতা আরও জোরদার না করা হয় এবং দীর্ঘদিনের রীতি অনুসারে যদি তাদের উপেক্ষা করা অব্যাহত থাকে, তাহলে ধারণা করা যায় যে চীন কয়েক মাসের মধ্যেই বেলুচিস্তানে তার সামরিক বাহিনী মোতায়েন করতে পারে। ৬ কোটি মানুষ অধ্যুষিত বেলুচিস্তানে জনগণের ইচ্ছা ছাড়াই চীনা সেনাদের উপস্থিতি ভারত এবং বেলুচিস্তান উভয়ের ভবিষ্যতের জন্য এক অকল্পনীয় হুমকি এবং চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।”
এমআই/টিকে