শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, সরকার জনগণকে বোকা ভেবেছে, এই চার্জশিট গ্রহণযোগ্য নয়।
তার দাবি, হত্যাকাণ্ডের পেছনে শুধু একজন সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নয়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র এবং রাষ্ট্রযন্ত্রও যুক্ত। মূল পরিকল্পনাকারী ও নেপথ্যের শক্তিগুলো অভিযোগপত্রে না থাকায় এই চার্জশিট তারা প্রত্যাখ্যান করছেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শেষে এসব কথা বলেন আবদুল্লাহ আল জাবের। এসময় তিনি হাদি হত্যার তদন্ত ও চার্জশিটকে ‘দায়সারা’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান’ বলেও আখ্যা দেন।
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, সরকার বলেছে, একজন ওয়ার্ড কমিশনার নাকি হাদিকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছে। তার নির্দেশে ফয়সাল করিম মাসুদ খুন করেছে। এই গল্প তো পাগলেও বিশ্বাস করবে না। এই হত্যার পেছনে একটা পুরো চক্র সক্রিয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় ছায়া আছে, রাষ্ট্রযন্ত্র আছে। অথচ চার্জশিটে তাদের নাম নেই। যেই চার্জশিটে মূল চক্র নেই, আমরা সেটা মানি না।
তিনি আরও বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে বিচার নিশ্চিতের বার্তা দিয়েছি। কিন্তু চার্জশিট দেখে বুঝেছি, সরকার আমাদের বার্তা আমলেই নেয়নি। তারা জনগণকে বোকা মনে করেছে।
হুমকি ও নতুন কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের এ নেতা বলেন, এই জনগণ রক্ত দিয়েছে। দরকার হলে রক্ত নিতেও প্রস্তুত। সরকার যদি হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে না পারে আর ভারতীয় আধিপত্যবাদকে বিদায় করতে না পারে, তাহলে পরিণতির সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে জানিয়ে জাবের বলেন, এমন কর্মসূচিও আসতে পারে, যেখানে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ নিশ্চিত করেই আমরা রাজপথ ছাড়ব। এমনকি তাদের পদত্যাগ করিয়ে তারপরই আমরা ঘরে ফিরব।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা জানান, চার্জশিট সংশোধন এবং প্রকৃত নেপথ্যের শক্তিগুলোকে বিচারের আওতায় না আনা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। শাহবাগের কর্মসূচি শেষে সমবেত জনতার মধ্যেও চার্জশিট নিয়ে ক্ষোভ দেখা গেছে।
এসএস/টিকে