মাদুরোর পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের নজরে ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা প্রধান!

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেসকে সহযোগিতা করা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাবেল্লোকেও প্রেসিডেন্ট মাদুরোর মতো ভাগ্য বরণ করতে হতে পারে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর এবার দেশটির কট্টরপন্থি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডায়োসডাডো কাবেল্লোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

কাবেল্লোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মানতে সহযোগিতা না করলে কাবেল্লোও টার্গেট লিস্টের শীর্ষে থাকতে পারেন বলে তাকে সতর্ক করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মানতে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেসকে পূর্ণ সহযোগিতা করা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে কাবেল্লোকে। তা না হলে তাকেও মাদুরোর মতো ভাগ্য বরণ করতে হতে পারে।

বিষয়টি সংশ্লিষ্ট তিন সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একথা জানিয়েছে। ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রক কাবেল্লোর বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি মাদুরোর গুটিকয়েক অনুগতদের একজন।

মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলায় শাসনক্ষমতা বদলের এই অন্তর্বর্তী সময়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অস্থায়ী শাসক হিসাবে কাবেল্লোর ওপরই নির্ভর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে এক ব্রিফিংয়ে একথা বলেছেন এক সূত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র বলেছেন, কাবেল্লোর দমন-পীড়ন চালানোর রেকর্ড এবং রদ্রিগেজের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দের ইতিহাসের কারণে তিনি ভক্ষকের ভূমিকা নিতে পারেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা বিশেষত উদ্বিগ্ন।

তারা কাবেল্লোকে ক্ষমতা থেকে সরানো এবং নির্বাসনে পাঠানোর পথ খুঁজতে থাকার পরও তাকে দিয়ে জোর করে সহযোগিতা করিয়ে নিতে চাইছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা এরই মধ্যে মস্থতাকারীদের মাধ্যমে কাবেল্লোকে বার্তা পাঠিয়েছেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কথা না মানলে তার পরিণতিও হতে পারে মাদুরোর মতো।

গত শনিবার ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে আটক করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যায় মার্কিন সেনারা। সেখানে মাদক সন্ত্রাস ও অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক মামলায় মাদুরোর বিচার শুরু হয়েছে।

কাবেল্লোকেও এমন বিচারের মুখে পড়তে হতে পারে কিংবা তার জীবন বিপন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছেন এক সূত্র। তবে কাবেল্লোকে তুলে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাকে তুলে নিতে গেলে ‘কোলেক্তিভো’ নামক সরকারপন্থি সশস্ত্র মোটরসাইকেল বাহিনী রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র এড়াতে চায়।

ওদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডেলসি রদ্রিগেস তার ক্ষমতা সুসংহত করতে শুরু করেছেন। মঙ্গলবার রাতে জেনারেল গুস্তাভো গঞ্জালেজ লোপেজকে প্রেসিডেন্সিয়াল অনার গার্ড এবং সামরিক কাউন্টারইন্টেলিজেন্স এর নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রীয় টিভির খবরে একথা জানানো হয়েছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দুর্নীতির কারণে গুস্তাভো গঞ্জালেজ এবং অন্যান্য উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ছিল। তারপরও ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মাদুরো তার মন্ত্রিসভা ও নিরাপত্তা বাহিনী রদবদলের সময় গঞ্জালেজকে সরিয়েছিলেন। তবে পরে তিনি রদ্রিগেসের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। গঞ্জালেজ লোপেজ কাবেল্লোর ঘনিষ্ঠ বলেই মনে করা হয়। তবে বর্তমানে তিনি রদ্রিগেসের সঙ্গে কাজ করছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কাবেল্লোর প্রতি রদ্রিগেসের সমর্থনের ইঙ্গিত অথবা তাকে কৌশলে নিয়ন্ত্রণে রাখার পদক্ষেপ হতে পারে। কাবেল্লোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী নিশানায় রয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো। কাবেল্লোর মতো পাদ্রিনোর বিরুদ্ধেও মাদক পাচারের অভিযোগ রয়েছে এবং তাকে ধরিয়ে দিতে কয়েক লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, পাদ্রিনো কাবেল্লোর চেয়ে কম একগুঁয়ে এবং তিনি নিজের নিরাপদ প্রস্থানের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানতে রাজি হতে পারেন। রয়টার্স জানিয়েছে, নোবেলজয়ী বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোকে এখনই ক্ষমতায় বসাতে আগ্রহী নয় ট্রাম্প প্রশাসন।

সিআইএ-র এক গোপন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প মনে করছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মাদুরোর সাবেক সহযোগীদের মাধ্যমেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চালানো সবচেয়ে নিরাপদ।

ভেনেজুয়েলার নেতাদের কাছে ওয়াশিংটনের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য তেল ক্ষেত্র উন্মুক্ত করে দেওয়া, মাদক ব্যবসা দমন করা, কিউবান নিরাপত্তা কর্মীদের বহিষ্কার করা এবং ইরানের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সহযোগিতা বন্ধ করা। যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই দাবিগুলো পূরণে অগ্রগতি দেখতে চায়।

এসএস/টিএ

Share this news on:

সর্বশেষ

img
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলেন একরামুজ্জামান Jan 09, 2026
img
পুষ্পা টু-তে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুললেন শ্রীলীলা Jan 09, 2026
img
বিশ্বব্যবস্থা ধ্বংস করছে যুক্তরাষ্ট্র : জার্মান প্রেসিডেন্ট Jan 09, 2026
বিপন্ন বিশ্বব্যবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে উদ্বেগ জার্মানির Jan 09, 2026
প্রাইমারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের একজন আটক! Jan 09, 2026
জনগণের প্রশ্ন-ভোট হবে কি হবে না? Jan 09, 2026
অনুমোদনের পথে জুলাই দায়মুক্তি খসড়া Jan 09, 2026
কারাবন্দিদের হাতে তৈরি নকশিকাঁথা! দাম জানলে চমকে যাবেন! Jan 09, 2026
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন Jan 09, 2026
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: উত্তেজনা থেকে সম্ভাব্য পুনর্গঠন Jan 09, 2026
১০ মিনিটে গোটা বিশ্বের সারাদিনের সর্বশেষ আলোচিত সব খবর Jan 09, 2026
৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপে ট্রাম্পের সম্মতি Jan 09, 2026
বিড়ালদের জন্য শেল্টারবক্স দিলো ডাকসু Jan 09, 2026
দ্য ব্লাফ-এ একেবারে নতুন লুক Jan 09, 2026
বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে সিনেমায় হাস্যরস Jan 09, 2026
বার্সেলোনা থেকে ইন্টার মায়ামি, মেসির ভাষার পছন্দের রহস্য Jan 09, 2026
নিগার সুলতানার নেতৃত্বে নারী বিশ্বকাপ বাছাই খেলবে বাংলাদেশ Jan 09, 2026
আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে সরিয়ে দেওয়া খুবই দুঃখজনক : তামিম Jan 09, 2026
img
শুটিং শুরুর অপেক্ষায় মিমের নতুন সিনেমা Jan 09, 2026
img
নতুন রূপে ফিরছেন সামান্থা Jan 09, 2026