দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির দুই নেতাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) তাদের দুজনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
বহিষ্কৃত দুই নেতা হলেন নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. পাভেল রহমান ও পারইল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. রফিক।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপনের দলীয় প্যাডে স্বাক্ষরিত এক বহিষ্কার আদেশের চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাণীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন।
সাময়িক বহিষ্কার আদেশে বলা হয় উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল পদে থাকা সত্ত্বেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত রয়েছেন। বিষয়টি নওগাঁ জেলা বিএনপির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এমতাবস্থায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত মোতাবেক দলীয় পদমর্যাদা হতে দল থেকে তাদের দুজনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো।
এ ছাড়া বহিষ্কৃত দুজনকে দলের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা বিএনপির আওতাধীন সব নেতাকর্মী এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের তাদের দুজনের সঙ্গে দলীয় কোনো প্রকার যোগাযোগ না রাখার জন্যও নির্দেশ প্রদান করা হয়।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে জানতে চাইলে সদ্য বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. পাভেল রহমান দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
আমি উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দীর্ঘদিনের আনুগত্য, ত্যাগ ও সংগ্রামকে উপেক্ষা করে দলের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গুপ্ত চাঁদাবাজ, দখলবাজ, দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি। আর এ প্রতিবাদ করাকেই যদি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে সেটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নৈতিক আদর্শ, রাজনৈতিক অবস্থান ও জন আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিবাদ করায় বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করি, তা দলীয় নৈতিকতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থি। আদর্শের প্রশ্নে আপোষহীন কণ্ঠ কখনো দমন করা যায় না এই অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
পিআর/টিএ