বাংলাদেশের বিনোদন জগতে হাসির ছন্দের এক অমর নাম টেলিসামাদ। আজ এই প্রখ্যাত কৌতুক অভিনেতার জন্মদিন, যিনি নিজের অভিনয় দিয়ে অসংখ্য দর্শকের মুখে হাসি ফোটাতে সক্ষম হয়েছেন। টেলিসামাদ কেবল অভিনয় করেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; তার অভিনয়ধর্মী কৌতুক, সময়োপযোগী মন্তব্য এবং প্রাঞ্জল হাস্যরসের কারণে তিনি টেলিভিশন, রেডিও এবং স্টেজে এক বিশেষ জায়গা তৈরি করেছিলেন।
দর্শকরা তাকে মনে রাখবেন শুধুমাত্র চরিত্রের জন্য নয়, বরং তার বিনয়ী স্বভাব, সহমর্মিতা এবং বিনোদনের প্রতি অটল নেশার জন্যও। আজকের দিনে শুভেচ্ছা জানাতে ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন, যেখানে তার জনপ্রিয় চরিত্রগুলোর ক্লিপস এবং স্মৃতিচারণা শেয়ার করা হচ্ছে।
১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ ছবিতে কৌতুকাভিনয়ের মাধ্যমে অভিনয় জগতে পা রাখেন টেলি সামাদ। ‘নয়নমণি’ ও ‘পায়ে চলার পথ’-এর মতো ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। চার দশকে তার দীর্ঘ এই অভিনয়ের ক্যারিয়ারে ৬০০ ছবিতে অভিনয় করেছেন।
এ ছাড়া গায়ক এবং সংগীত পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। ‘মনা পাগলা’ সিনেমায় সংগীত পরিচালনার পাশাপাশি প্রায় অর্ধশতাধিক ছবির গানে কণ্ঠ দিয়েছেন টেলি সামাদ। বরেণ্য এই অভিনেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান তিনি। অভিনেতার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে আছে কুমারী মা, আমার স্বপ্ন আমার সংসার, জিরো ডিগ্রী, মায়ের চোখ, রিকসাওয়ালার ছেলে, মন বসে না পড়ার টেবিলে, কেয়ামত থেকে কেয়ামত, সাথী হারা নাগিন, গোলাপী এখন ট্রেনে, ভাত দে, সুজন সখী, নাগরদোলা ইত্যাদি। ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
টেলিসামাদ জন্মদিন উদযাপন শুধু তার ভক্তদের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের কৌতুক ও বিনোদন জগতের জন্যও একটি বিশেষ দিন। তার হাসি এবং অভিনয়শিল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সময়ের সাথে গড়ে ওঠা হাসিই জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অমুল্য সম্পদ।
এমকে/এসএন