কয়েক দিন আগেও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রোর সম্পর্ক ছিলো সাপে-নেউলে। ছিল কলম্বিয়ায় ট্রাম্পের সামরিক হামলার হুমকি আর এর বিপরীতে পেত্রোর অস্ত্র তুলে নেয়ার হুঁশিয়ারি। তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই সম্পর্কে শুরু হয়েছে বরফগলা।
বুধবার দুই নেতার দীর্ঘ ফোনালাপের পরই কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রোকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
দুই নেতার মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ফোনালাপ হয়। এরপরই নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে এই আমন্ত্রণের কথা জানান ট্রাম্প।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সাথে কথা বলতে পারা একটি বড় সম্মান। তিনি ফোন করেছিলেন মাদক পরিস্থিতি এবং আমাদের মধ্যকার অন্যান্য দ্বিমতগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য। আমি তার কথা বলার ধরন এবং সুরের প্রশংসা করি। অদূর ভবিষ্যতে তার সাথে দেখা করার অপেক্ষায় আছি।
হোয়াইট হাউসে এই বৈঠকের প্রস্তুতি নিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং কলম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ফোনালাপের সময় কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটায় মার্কিন হুমকির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। প্রেসিডেন্ট পেত্রো বিক্ষোভকারীদের সামনে বক্তব্য রাখার সময় জানান, শেষ মুহূর্তে তাকে তার ভাষণের সুর পরিবর্তন করতে হয়েছে। পেত্রো বলেন, যদি আমরা কথা না বলি, তবে যুদ্ধ হবে। কলম্বিয়ার ইতিহাস আমাদের তা-ই শিখিয়েছে। আমরা প্রথমবারের মতো সরাসরি কথা বলেছি এবং যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করেছি।
উল্লেখ্য গত শনিবার (৪ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী আটক করার পর লাতিন আমেরিকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রোকে 'অসুস্থ মানুষ' এবং 'কোকেন কারবারি' হিসেবে অভিহিত করে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এর প্রতিবাদে পেত্রো কলম্বিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনে আবারও অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
এমআই/এসএন