যে কোনো পন্থা অবলম্বন করে হলেও যুক্তরাষ্ট্র, গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেলশিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা তাস।
বৈঠকে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করতে কত খরচ হতে পারে, এমন প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তিনি এখনই গ্রিনল্যান্ডের জন্য অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন না। তবে প্রয়োজনে সে বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে গ্রিনল্যান্ডের জন্য টাকার কথা বলছি না। যদিও ভবিষ্যতে তা বলতে পারি। কিন্তু এখন আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কিছু একটা করতে যাচ্ছি, তারা পছন্দ করুক বা না করুক। কারণ আমরা যদি এটা না করি, তাহলে রাশিয়া বা চীন গ্রিনল্যান্ড দখল করে নেবে, আর আমরা রাশিয়া বা চীনকে প্রতিবেশী হিসেবে চাই না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই বিষয়টি সহজ উপায়ে একটি চুক্তির মাধ্যমে হোক। কিন্তু যদি সহজ উপায়ে না হয়, তাহলে আমরা কঠিন পথেই যাব।’ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হলে কী বাড়তি সুবিধা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘মালিকানা থাকলে প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। কারণ যখন আমরা কোনো জায়গার মালিক হই, তখন আমরা সেটিকে রক্ষা করি। শুধু লিজ নিলে একইভাবে প্রতিরক্ষা করা যায় না।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত। ২০২৫ সালের মে মাসের শুরুতে এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিষয়টি সমাধানে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত বছরের মার্চের শেষ দিকে বলেন, মার্কিন সরকার আশা করছে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীনতা অর্জনের পর শান্তিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হবে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন।
তবে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি হোয়াইট হাউস এক লিখিত বিবৃতিতে গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত পরিকল্পনা নিয়ে মন্তব্য করে জানায়, অবশ্যই, মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহার করা সর্বাধিনায়কের ক্ষমতার মধ্যেই পড়ে। অর্থাৎ, প্রয়োজনে এই বিকল্পটি ট্রাম্পের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। এর পরদিন ৭ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, গ্রিনল্যান্ড কেনার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছেন।
গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ১৯৫১ সালে ওয়াশিংটন ও কোপেনহেগেন ন্যাটোর আওতায় থাকা দায়িত্বের পাশাপাশি ‘গ্রিনল্যান্ড ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডকে সম্ভাব্য যে কোনো আগ্রাসন থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব নেয়।
আইকে/টিএ