‘ইন্টারনেট বন্ধ করিনি বন্ধ হয়ে গেছে' গণমাধ্যমে দেয়া সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের এ বক্তব্য ট্রাইব্যুনালে বিচারককে শুনিয়েছে প্রসিকিউশন। আর কাঠগড়ায় বসে তা শুনেছেন পলক নিজেও। একইসঙ্গে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধের বিষয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও পলকের কথপোকথন পড়ে শোনা হয়।
রোববার (১১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে শুনানিতে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে প্রসিকিউটর বলেন, সাবমেরিন কেবল কাটা পড়া বা বিটিসিএল ভবনে আগুন লেগে ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার কথা প্রচার করার সেই দায় ছাত্র-জনতার ওপর চাপানো হয়। আদতে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল তৎকালীন সরকারের নির্দেশেই। জুলাই হত্যাযজ্ঞ ও নৃশংসতা আড়াল করতে এটি করা হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটির উপদেষ্টা ছিলেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বিদেশি বসেই পলকের সাথে এসবের নীলনকশা করেছিলেন বলে প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালকে জানায়। এ মামলায় প্রসিকিউশনের অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি আসামিপক্ষের শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
এদিন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, এক থেকে দুদিনের মধ্যেই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়ানোর আবেদন শুনানির জন্য চেম্বার আদালতে নেয়া হবে।
৭ জানুয়ারি ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়েছিলেন পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ। এছাড়া পলাতক জয়ের পক্ষে লড়ছেন সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী মনজুর আলম।
ওই দিন আসামিদের বিরুদ্ধে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৭ ডিসেম্বর আদেশ দেওয়া রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের চিঠি ইস্যু না হওয়ায় শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুনানি করে প্রসিকিউশন।
১০ ডিসেম্বর জয়কে আত্মসমর্পণে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন আদালত। ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) আমলে নেন আদালত।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটির উপদেষ্টা ছিলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ইন্টারনেট বন্ধ করে বিশ্বের কাছ থেকে গণহত্যার তথ্য লুকানোর চেষ্টা করেছিল আইসিটি মন্ত্রণালয়। যার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে জয়ের নাম উল্লেখ করা হয়। আর বাংলাদেশে বসে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন পলক। ফলে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে গণহত্যায় উসকানির দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হয় ট্রাইব্যুনালে।
কেএন/টিকে