ইংল্যান্ডের তারকা অলরাউন্ডার মঈন আলী বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের অতীত ম্যাচের স্মৃতিচারণ করেছেন। বিশেষ করে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ এবং ২০১৭ সালের টেস্ট সিরিজ নিয়ে তার মন্তব্য ক্রিকেট মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঈন আলী অকপটে স্বীকার করেছেন যে, ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে তাদের হারটি এক অর্থে ইংল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য ভালোই হয়েছিল, যা পরবর্তীতে তাদের ২০১৯ বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের কাছে ইংল্যান্ডের সেই পরাজয় যেন মঈনদের জন্য শাপেবর হয়েছে!
শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মঈন আলী ২০১৫ বিশ্বকাপের স্মৃতিচারণ করে বলেন, "হ্যাঁ, একজন খেলোয়াড় হিসেবে এটা সম্ভবত সবচেয়ে খারাপ অনুভূতিগুলোর একটা ছিল। বাংলাদেশ আমাদের হারিয়েছে বলে না। বাংলাদেশ ভালো খেলোয়াড় ছিল, ভালো দল ছিল। কিন্তু আমরা যেভাবে খেলছিলাম, সেটার কারণে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "এক অর্থে ভালোই হয়েছিল যে আমরা ওই ম্যাচটা হেরেছিলাম, কারণ পুরো মানসিকতা বদলে গিয়েছিল, পুরো কোচিং স্টাফ বদলে গিয়েছিল, সবকিছুই পরিবর্তন হয়েছিল এবং সেটা আমাদের একেবারে ভিন্ন একটা পথে নিয়ে গিয়েছিল, যার একটা বড় কারণেই আমরা ২০১৯ বিশ্বকাপ জিততে পেরেছি।"
মঈনের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সেই হার ইংল্যান্ড ক্রিকেটকে আত্মবিশ্লেষণ এবং পরিবর্তনের পথে চালিত করেছিল, যা তাদের সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এক নতুন পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
বাংলাদেশের ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট খেলার সুযোগ পাওয়া উচিত কিনা, এমন প্রশ্নে মঈন আলী ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। ১৫ বছর আগে সর্বশেষ ইংল্যান্ড সফরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, "হ্যাঁ, অবশ্যই (বাংলাদেশের ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট খেলার সুযোগ পাওয়া উচিত)। ২০১০ অনেক আগের কথা। অগ্রগতি হয়েছে কি না, সেটা দেখা ভালো লাগবে। তবে বাংলাদেশ একটি কঠিন দল। আমার মনে হয়, তারা যদি সুযোগ পায়, তাহলে সেটা তাদের জন্য ভালো হবে।"
২০১৭ সালের বাংলাদেশ সফরে এসেছিল ইংল্যান্ড। সেইবার প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডকে টেস্টে হারিয়েছিল টাইগাররা। বেন স্টোকসকে আউট করে স্যালুট জানিয়ে উইকেট উদযাপন করেছিলেন সাকিব আল হাসান। সেই দলে ছিলেন মঈন আলীও।
টেস্ট সিরিজে সাকিব আল হাসানের বেন স্টোকসকে স্যালুট জানানোর ঘটনা প্রসঙ্গে মঈন আলী বলেন, "আমি সেটা মনে করতে পারছি না, কিন্তু… সিরিজটা কি ১-১ ছিল নাকি ২-১? ১-১- ছিল। হ্যাঁ, তাহলে বাংলাদেশ আমাদের হারায়নি, সিরিজটা ১-১ হয়েছিল। স্যালুটের ঘটনাটা সত্যি বলতে আমার মনে নেই। তবে সিরিজটা ভালো ছিল, বেশ ভালো সিরিজ ছিল। ওটা কি মিরাজের প্রথম মানে তার অভিষেক সিরিজ ছিল, তাই না?"
২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট হারার পর ইংল্যান্ড দলে আসে ব্যাপক পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের সুফল দেখা যায় ২০১৯ বিশ্বকাপে। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে ইংল্যান্ড। রোমাঞ্চকর সেই ফাইনালে সমান সমান রান করেছিল ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। সুপার ওভারেই একই রান করে দুই দলই। তবে বাউন্ডারি বেশি হাঁকানোর ভিত্তিতে ইংল্যান্ডকে জয়ী ঘোষণা করা হয়।
২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ ওভারে, যখন জোফরা আর্চারের শেষ বলটি ছিল, তখন তার অনুভূতি কেমন ছিল জানতে চাইলে মঈন বলেন, "আমি জানি না, ঠিক মনে করতে পারছি না। শুধু জানতাম, আমার মনে হচ্ছিল আমাদেরই জেতার কথা। যখন বলটা স্টোকসের ব্যাটে লেগে চার হয়ে গেল, তখনই আমি জানতাম আমরা জিততে যাচ্ছি। আমাদের জেতাটাই যেন লেখা ছিল।"
এবি/টিকে