ভোটের বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম।
তিনি বলেন, আজ যদি ২ হাজার টাকায় ভোট বিক্রি করেন, তবে আগামী পাঁচ বছরে আপনার ভাগের অন্তত ২০০ কোটি টাকা বিভিন্নভাবে এস্টাবলিশমেন্টের পকেটে চলে যাবে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
নুসরাত তাবাসসুম বলেন, এনসিপির প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে তরুণ নেতৃত্বকে সংসদে নিয়ে আসা। বাংলাদেশের সংসদে যদি তরুণ প্রতিনিধিরা যেতে পারেন, তবে তা দেশের অন্যান্য প্রান্তের যুবসমাজকে উজ্জীবিত করবে। আমরা চাই তরুণরা সংসদীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিক।
রাজনৈতিক জোট গঠন নিয়ে নিজের ভিন্নমতের কথা জানিয়ে এনসিপির এই নেত্রী বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি এই জোটের বিরোধিতা করেছি। তবে আমাদের দল এনসিপি অন্তর্দলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। দলের সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে বৃহত্তর স্বার্থে আমি তা মেনে নিয়েছি এবং নির্বাচনের জন্য কাজ করছি।
বিপ্লব পরবর্তী সংস্কারের গতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে নুসরাত বলেন, বিপ্লব নিজেই একটি সংস্কারের ম্যান্ডেট দেয়। সেখানে অন্যের সম্মতির মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। গত দেড় বছরে আমাদের কাছে অনেক সুযোগ ছিল, কিন্তু আমরা খুব একটা এগোতে পারিনি।
তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হাল ধরেছিল, সেজন্য তাকে ধন্যবাদ। কিন্তু সংস্কারের কাজ নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে সন্তুষ্ট নই। বিশেষ করে ঐক্যমত কমিশনের ওপর আমার অভিমান আছে। মনে বিষ রেখে বাইরে মধু ছড়িয়ে কোনো লাভ নেই। এই কমিশন আরও দুই বছর চললেও প্রকৃত ঐকমত্য সম্ভব বলে আমি মনে করি না।
দেশের মানুষের আত্মমর্যাদা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, যতদিন আমরা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারব, ততদিন মানুষের ডিগনিটি বা মর্যাদা বিক্রি হতেই থাকবে। ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।
আইকে/টিএ