সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মোহাম্মদ শিশির মনিরের নির্বাচনী বৈঠকে বক্তব্য দিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের চকবাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, মাইকে বক্তব্য দিচ্ছেন গোলাপ মিয়া নামে এক ব্যক্তি, যিনি আগে রাজানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার পাশে বসে থাকতে দেখা যায় জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনিরকে।
বক্তব্যে গোলাপ মিয়া ভোটকে উন্নয়নের মূল হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঘর, দরজা, তালা আর চাবির উদাহরণ টেনে ভোটই হচ্ছে সবচেয়ে ছোট কিন্তু সবচেয়ে শক্তিশালী চাবি। সেই চাবি কার হাতে দেওয়া হবে, তা নিয়ে এলাকার মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার মতে, দিরাই-শাল্লার জন্য সেই যোগ্যতা রয়েছে মোহাম্মদ শিশির মনিরের।
স্থানীয় সূত্র ও ভিডিও বিশ্লেষণে জানা গেছে, একই বৈঠকে বক্তব্য দেন রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেনু মিয়া, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খসরু মিয়া এবং আলতাবুর রহমান। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তারা সবাই অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে গোলাপ মিয়া জানান, বর্তমানে তার কোনো দলীয় পদ নেই এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতি এখন নিষিদ্ধ। তিনি আরও জানান, ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে কাউকে না কাউকে। এলাকার স্বার্থ বিবেচনা করেই একজন সাধারণ ভোটার হিসেবে তিনি ওই বৈঠকে কথা বলেছেন। একইভাবে রেনু মিয়া, খসরু মিয়া ও আলতাবুর রহমানও বর্তমানে কোনো দলীয় দায়িত্বে নেই বলে দাবি করেন তিনি।
এই ঘটনা দিরাই-শাল্লা এলাকায় তীব্র আলোচনা তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিষিদ্ধ দলের সাবেক নেতাদের প্রকাশ্যে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়া আসন্ন নির্বাচনে ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এসএস/টিএ