বাড়ি হোক বা অফিস, দুপুরের খাবার খাওয়ার পরই চোখে রাজ্যের ঘুম নেমে আসে অনেকেরই। এই ঘুম ঘুম ভাব যেকোনো বয়স, লিঙ্গ বা পেশার মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একজন ব্যক্তি যখন দুপুরের খাবারের পর অলস বোধ করেন এবং যদি একই জায়গায় বসে থাকেন, তাহলে তার ঘুম পাওয়া স্বাভাবিক।
আসলে, এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক চাহিদা, যা সঠিকভাবে পালন করা হলে ক্ষতিকরের চেয়ে বরং উপকারী হতে পারে।
তবে প্রথমে এর পেছনে বৈজ্ঞানিক কারণটি বুঝতে হবে।
দুপুরে কেন ঘুম পায়
যদি দুপুরের এই ঘুম রাতের ঘুমকে ব্যাঘাত না ঘটায়, তাহলে দুপুরের এই ভাতঘুম একেবারে ঠিক। শরীর সাধারণত রাতের ঘুমকেই চায়। তবে এরপর যে ঘুমের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়, তা হলো দুপুরে খাবার খাওয়ার পর, দুপুর ১টা থেকে ২টা বা ২.৩০-এর মধ্যে।
শরীর খাওয়ার পর এই ঘুমটাই চায়, তাই বেশিরভাগ মানুষই দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়েন। তবে এই ঘুম যেন স্বল্পক্ষণের হয়, দীর্ঘ ঘুম না হয়।
এই পাওয়ার ন্যাপ ১০ থেকে আধঘণ্টার মধ্যে রাখতে হবে। তবে পাওয়ার ন্যাপের জন্য আদর্শ পরিমাণ প্রায় ২০ মিনিট বলে মনে করা হয়, যার অর্থ একজন ব্যক্তি প্রায় ২০ মিনিট ঘুমানোর পরে আরো সতেজ বোধ করেন।
পাওয়ার ন্যাপ কী
চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে একটি ছোট ঘুমকে পাওয়ার ন্যাপ বলা হয়। এরপর, একজন ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠে আরো সতেজ এবং বর্ধিত শক্তি অনুভব করেন। এই পাওয়ার ন্যাপ রাতের ঘুমকে ব্যাঘাত না ঘটালে তা শরীরের জন্য ভালো।
পাওয়ার ন্যাপের সঠিক উপায়
পাওয়ার ন্যাপ নেওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হলো দুপুর ১টা থেকে ৩টার মধ্যে। এই সময় আপনার শরীরের তাপমাত্রা সামান্য কমে এবং আপনি স্বাভাবিকভাবেই ঘুমে ঢলে পড়েন।
তবে বিকেল ৪টার পর এই পাওয়ার ন্যাপ এড়িয়ে চলুন।
আপনি যদি ৩০ মিনিটের বেশি ঘুমান, তাহলে আপনার শরীর ‘গভীর ঘুম’ এ প্রবেশ করবে। এর ফলে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথা ভারী হয়ে যেতে পারে এবং সতেজ বোধ করার পরিবর্তে অলস বোধ করবেন এবং মেজাজ খিটখিটে হবে।
এমআই/এসএন