গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরুর কথা জানালেন ট্রাম্পের দূত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এই ধাপে গাজার নিরস্ত্রীকরণ, টেকনোক্র্যাটিক প্রশাসন গঠন এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানান তিনি। আনাদোলু এজেন্সির বরাত দিয়ে খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।

উইটকফ বলেন, দ্বিতীয় ধাপে গাজায় একটি অন্তর্বর্তী টেকনোক্র্যাটিক ফিলিস্তিনি প্রশাসন গঠন করা হবে, যার নাম ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি)। একই সঙ্গে গাজার পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ শুরু হবে, যার আওতায় অননুমোদিত সব সশস্ত্র সদস্যকে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাসকে তাদের সব দায়িত্ব পূর্ণভাবে পালন করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে ‘শেষ মৃত জিম্মির তাৎক্ষণিক প্রত্যাবর্তন’। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে ‘গুরুতর পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এ সময় গাজা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুরস্ক, মিসর ও কাতারকে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্পের বিশেষ দূত। তিনি বলেন, তাদের অপরিহার্য মধ্যস্থতাই এখন পর্যন্ত সব অগ্রগতিকে সম্ভব করেছে।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল বারবার তা লঙ্ঘন করছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৪৫০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

এছাড়া, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নভেম্বর ২০২৫ সালের প্রস্তাব অনুযায়ী গাজায় স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি, বাধাহীন মানবিক সহায়তা প্রবেশ এবং পুনর্গঠনের আহ্বান জানানো হলেও ইসরায়েল এখনো গাজার সীমান্ত ক্রসিংগুলো পুনরায় খুলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।


ইউটি/টিএ


Share this news on:

সর্বশেষ

img
নাজমুল ইসলামের মন্তব্যে শোকজ করল বিসিবি Jan 15, 2026
img
বাহরাইনে প্রবাসীর বাসায় পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল, ইসির ব্যাখ্যা Jan 15, 2026
img
বাড়ি থেকে বের হলেই বিতর্ক, মুখ খুললেন মালাইকা Jan 15, 2026
img
আনুষ্ঠানিকভাবে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র Jan 15, 2026
img
নাজমুলের পদত্যাগের দাবিতে কঠোর অবস্থানে ক্রিকেটাররা, মাঠে যাননি কেউ Jan 15, 2026
img
নারায়ণগঞ্জে পথসভা করবেন তারেক রহমান Jan 15, 2026
img
কোন অভিমানে ১৫ বছর বড় পর্দা থেকে দূরে ছিলেন ডলি জহুর? Jan 15, 2026
img
ট্রাম্প সন্দিহান, ইরানে রেজা শাহ পাহলভি কতটা জনপ্রিয়? Jan 15, 2026
img
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, নঈম নিজামসহ তিনজনের মামলা বাতিলের আদেশ Jan 15, 2026
img
সংগীতশিল্পী ফাতেমাতুজ জোহরার জন্মদিন আজ Jan 15, 2026
img
ভেনেজুয়েলার ওপেকে থাকা নিয়ে কী বললেন ট্রাম্প? Jan 15, 2026
img
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনা তৈরিতে তাড়াহুড়ো কার স্বার্থে, প্রশ্ন সিপিডির Jan 15, 2026
img
যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের সম্ভাব্য ছয়টি পথ Jan 15, 2026
img
৪ দিন আগেই গোপনে কোন কাজ সেরেছেন রাফসান-জেফার? Jan 15, 2026
img
রাজবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো ২ কিশোরের Jan 15, 2026
img
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিল রাশিয়া Jan 15, 2026
img
ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্যই আইনসভায় উচ্চকক্ষের সুপারিশ: আলী রীয়াজ Jan 15, 2026
img
ঘন কুয়াশা ও শীতে বিপর্যস্ত দিনাজপুরের জনজীবন Jan 15, 2026
img
ইসিতে ষষ্ঠ দিনের শুনানি চলছে Jan 15, 2026
img
৭৮টি ঘুমের ওষুধ খেয়েও কীভাবে বেঁচে আছেন অভিনেত্রী দেবলীনা নন্দী! Jan 15, 2026