অব্যাহতি চেয়ে জয়-পলকের আইনজীবীর শুনানি আজ

জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যায় উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অব্যাহতি চেয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের আইনজীবীদের শুনানি আজ (বৃহস্পতিবার)।

আজ (বৃহস্পতিবার) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি করবেন তারা।

পলকের পক্ষে শুনানি করবেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। পলাতক থাকায় জয়ের হয়ে লড়বেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম। ১১ জানুয়ারি কিছু আবেদনসহ শুনানির জন্য আজকের দিন পর্যন্ত সময় চান পলকের আইনজীবী। এর মধ্যে অন্যতম ছিল নিজের মক্কেলের সঙ্গে প্রিভিলেজ কমিউনিকেশন। পরে তার আবেদনটি মঞ্জুর করেন আদালত। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রসিকিউশনের চার্জ গঠন প্রশ্নে শুনানিসহ আসামিদের ডিসচার্জ (অব্যাহতি) চেয়ে আবেদন করবেন তারা।

জয়-পলকের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। অভিযোগ নম্বর-১ এ বলা হয়, জয়ের কথামতো ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পরপর তিনটি পোস্ট করে উসকানি দেন পলক। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী।

চার্জ-২ এ বলা হয়, উভয়ের পরামর্শক্রমে ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দেন জয় ও পলক। একইসঙ্গে হত্যায় সহায়তা করেন। ফলে পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় শহীদ হন রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন।

তিন নম্বর অভিযোগ, উত্তরায় ৩৪ হত্যায় সহায়তা করেন আসামিরা। তাদের উসকানি ও প্ররোচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় ছয় বছরের জাবির ইবরাহিম, সাগর হোসেন, সুজনরা শহীদ হন।

আসামিদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ গঠনের বিষয়ে ১১ জানুয়ারি শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ওই দিন তিনটি চার্জই পড়ে শোনান তিনি। একইসঙ্গে দুই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করা হয়।

এর আগে, ১০ ডিসেম্বর জয়কে আত্মসমর্পণে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন আদালত। গ্রেপ্তার থাকায় পলককে একই দিন হাজির করা হয়। ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) আমলে নেন আদালত।

এমআই/এসএন

Share this news on:

সর্বশেষ

img
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের হঠাৎ দরপতন, কারণ কী? Jan 15, 2026
img
ইউরোপ-আমেরিকাতে পাঠানোর নামে প্রতারণা, কাতার প্রবাসীদের সতর্ক করল দূতাবাস Jan 15, 2026
img
তারেক রহমানকে নিজের লেখা বই দিলেন আমান আযমী Jan 15, 2026
img
শিক্ষানবিশ ৯৬ এএসপির ছয় মাসের প্রশিক্ষণের জন্য বদলি Jan 15, 2026
img
বিক্ষোভকারী সোলতানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করল ইরান Jan 15, 2026
img
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনে ব্যয় কত? Jan 15, 2026
img
তারেক রহমানের সঙ্গে ১২ দলীয় জোটের নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ Jan 15, 2026
img
সাদিও মানের দুরন্ত গোলে মিশরকে হারিয়ে আফকনের ফাইনালে সেনেগাল Jan 15, 2026
img
মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র Jan 15, 2026
img
গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষকের বৈঠক Jan 15, 2026
img
বিরূপ আচরণ নয়, নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির Jan 15, 2026
img
খুলনা-৫ আসনে জাপা প্রার্থী পারভীনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা Jan 15, 2026
img
৭ ডিগ্রির ঘরে নেমেছে তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা, বইছে শৈত্যপ্রবাহ Jan 15, 2026
img
চট্টগ্রামে বিসিবির অনূর্ধ্ব-১৮ সিলেকশন ক্যাম্প সম্পন্ন, স্কিল ক্যাম্প শুরু আজ Jan 15, 2026
img
জোট নেতাদের খোঁজখবর নিলেন তারেক রহমান Jan 15, 2026
img
মার্কিন হামলার আশঙ্কায় আকাশপথ বন্ধ ঘোষণা করল ইরান Jan 15, 2026
img
মাদারীপুরে ২ পক্ষের সংঘর্ষে অগ্নিসংযোগ ও আহত ৫ Jan 15, 2026
img
পটুয়াখালীতে বিএনপি কার্যালয়ে আগুন Jan 15, 2026
img
বিএনপি থেকে পদত্যাগ, জামায়াতে যোগ দিলেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি Jan 15, 2026
img
১৫ বছর পর প্রকাশ্যে মডেল মানোহারার সেই বিতর্কিত বিয়ের অজানা অধ্যায় Jan 15, 2026