দেশে এই প্রথম একসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ায় নির্বাচনী ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে নির্বাচন কমিশনের জন্য নির্বাচনী খাতের বরাদ্দ ছিল দুই হাজার ৮০ কোটি টাকা। তবে গণভোটের বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে আরও এক হাজার ৭০ কোটি টাকা যোগ করে মোট বরাদ্দ তিন হাজার ১৫০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। বিষয়টি একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজন করতে অতিরিক্ত প্রস্তুতি, জনসচেতনতা কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হয়। এ কারণে নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি অর্থ বিভাগে বাড়তি অর্থ বরাদ্দের জন্য আবেদন করে এবং বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সেই প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংশোধিত বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, নির্বাচনী প্রচার ও বিজ্ঞাপন খাতে বরাদ্দ প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনার ব্যয় ছয় গুণ বাড়ানো হয়েছে। পরিবহন, মুদ্রণ ও বাঁধাই, মনিহারি সামগ্রী, আপ্যায়ন এবং বিভিন্ন ভাতার খাতেও বড় অঙ্কের ব্যয় সংযোজন করা হয়েছে। মোট ২০টি ব্যয় খাতের মধ্যে ১৭টিতেই বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ব্যালট বাক্স, পোস্টাল ব্যালট, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের সম্মানী ও ভাতার খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে মোট ১৫ লাখের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে বিশ্বের ১২৩টি দেশ থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একজন প্রবাসী ভোটারের জন্য সরকারকে গড়ে প্রায় ৭০০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে, যা মোট নির্বাচনী ব্যয়ের একটি বড় অংশ।
অতীতে দেশে তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও তা কখনো সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একদিনে আয়োজন করা হয়নি। নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হলে ভোটকেন্দ্র, কর্মকর্তা, ব্যালট পেপার ও প্রশিক্ষণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে হয়। পাশাপাশি গণভোটে কোনো প্রার্থী বা প্রতীক না থাকায় ভোটারদের বোঝাতে আলাদা জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো প্রয়োজন হয়, যা নির্বাচন কমিশনকেই বাস্তবায়ন করতে হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ও সাবেক নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনী ব্যয় যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা হলে এত বড় অঙ্কের প্রয়োজন হতো না। তিনি মনে করেন, বিভিন্ন খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ জানিয়েছেন, বাড়তি বরাদ্দের সব অর্থ গণভোটের জন্য নয়। বরং সামগ্রিকভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হওয়ার কারণে এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজনের সিদ্ধান্তে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি ব্যয়ের অঙ্কও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
এমকে/টিএ