মাদারীপুরে ২ পক্ষের সংঘর্ষে অগ্নিসংযোগ ও আহত ৫

মাদারীপুরে জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তার সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জেলার ডাসার উপজেলার খাতিয়াল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হন। এর মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। সংঘর্ষে দেওয়া আগুনে পুড়ে ছাই গেছে অন্তত ১৩টি বসতঘর। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আব্বাস চৌধুরী ও আনোয়ার জমাদারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াসহ হাত বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে আনোয়ারের নেতৃত্বে তার গ্রুপের লোকজন আব্বাসের ওপর হামলা চালায় এবং তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আব্বাসকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদরের ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে স্থানীয়রা ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এদিকে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আনোয়ার পক্ষের অন্তত ১৩টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায় আব্বাসের লোকজন। এসময় বাধা দিতে গেলে উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত সিরাজ জমাদ্দার বলেন, আমার ঘরবাড়ি সব পুড়ে ছাই হইয়া গেছে। শুধু আমি একাই না, জমাদ্দার বংশের ১৩টি ঘরে কিছু বাকি নাই। আমরা কোনো কিছু বোঝার আগেই আব্বাসের লোকজন হঠাৎ এই হামলা চালিয়েছে। আমরা এ হামলার বিচার চাই।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। পরে অপর পক্ষের লোকজন আবার হামলাকারী আনোয়ার পক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে আগুন দেয়। খবর পেয়ে আমরা পুলিশ, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও ইউএনও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় গতকালই দুই পক্ষ থেকে দুটি মামলা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এমকে/টিএ

Share this news on:

সর্বশেষ

img
রাজবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো ২ কিশোরের Jan 15, 2026
img
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিল রাশিয়া Jan 15, 2026
img
ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্যই আইনসভায় উচ্চকক্ষের সুপারিশ: আলী রীয়াজ Jan 15, 2026
img
ঘন কুয়াশা ও শীতে বিপর্যস্ত দিনাজপুরের জনজীবন Jan 15, 2026
img
ইসিতে ষষ্ঠ দিনের শুনানি চলছে Jan 15, 2026
img
৭৮টি ঘুমের ওষুধ খেয়েও কীভাবে বেঁচে আছেন অভিনেত্রী দেবলীনা নন্দী! Jan 15, 2026
img
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপি প্রার্থীর ওপর হামলার চেষ্টা, আহত ২ Jan 15, 2026
img
চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে ভেঙে পড়া ক্রেনের ধাক্কা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২ Jan 15, 2026
img
পে-স্কেল নিয়ে আবারও বৈঠক আজ, আসতে পারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত Jan 15, 2026
img
রেকর্ড উচ্চতা থেকে হঠাৎ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের পতন, কারণ কী? Jan 15, 2026
img

গুম ও খুনের মামলা

জিয়াউলের বিচারপ্রক্রিয়া অস্বাভাবিক গতিতে এগিয়েছে, অভিযোগ আইনজীবীর Jan 15, 2026
img
আপিলের কার্যতালিকায় শেখ হাসিনার আজীবন কারাদণ্ডের মামলা Jan 15, 2026
img
‘বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ’ গঠন করতে অধ্যাদেশ জারি Jan 15, 2026
img
ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধের আশ্বাসে সুর নরম করলেন ট্রাম্প Jan 15, 2026
img
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের হঠাৎ দরপতন, কারণ কী? Jan 15, 2026
img
ইউরোপ-আমেরিকাতে পাঠানোর নামে প্রতারণা, কাতার প্রবাসীদের সতর্ক করল দূতাবাস Jan 15, 2026
img
তারেক রহমানকে নিজের লেখা বই দিলেন আমান আযমী Jan 15, 2026
img
শিক্ষানবিশ ৯৬ এএসপির ছয় মাসের প্রশিক্ষণের জন্য বদলি Jan 15, 2026
img
বিক্ষোভকারী সোলতানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করল ইরান Jan 15, 2026
img
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনে ব্যয় কত? Jan 15, 2026