ছোটপর্দা থেকে রিয়্যালিটি শোর মঞ্চ, সেখান থেকে আবার ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়ঝাপটা সানা মকবুলের পথচলা যেন আলো আর ছায়ার মিশেল। মুম্বইয়ে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী কৈশোরেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। পনেরো বছর বয়সে নামী ভোগ্যপণ্য সংস্থার বিজ্ঞাপনে কাজ করে নজর কাড়েন, আর ২০১২ সালে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে নিজের আত্মবিশ্বাসের ছাপ রেখে যান।
পড়াশোনার পাশাপাশি ঘরে ঘরে পড়িয়ে রোজগার শুরু করেছিলেন সানা। অল্প অল্প করে জমানো টাকায় অষ্টম শ্রেণিতেই কিনেছিলেন নিজের প্রথম মোবাইল ফোন। সেই দৃঢ়তা তাঁকে ধীরে ধীরে অভিনয়ের জগতে নিয়ে আসে। ২০১০ সাল থেকে হিন্দি ধারাবাহিকে কাজ শুরু করেন তিনি, পাশাপাশি মিউজিক ভিডিওতেও দেখা যায় তাঁকে। ২০২০ সালে কুকুরের কামড়ে অস্ত্রোপচার হলেও থেমে থাকেননি সানা।
২০২১ সালে রিয়্যালিটি শোয়ে অংশ নিয়ে পরিচিতি বাড়ে তাঁর। সেখানে সহ-প্রতিযোগী বিশাল আদিত্য সিংহের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়ালেও সানা স্পষ্ট জানান, তাঁদের বন্ধুত্বই মূল। একই সময়ে গায়ক রাহুল বৈদ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকলেও ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝিতে সেই সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে।
আসল মোড় ঘোরে ২০২৪ সালে। বিগ বসের মঞ্চে লড়াই করে বিজয়ী হন সানা, জিতে নেন ট্রফি ও ২৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু সাফল্যের আলোয় যখন তিনি ঝলমল করছিলেন, তখনই ব্যক্তিগত জীবনে ফাটল ধরে। ব্যবসায়ী শ্রীকান্ত বুরেদির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল তাঁর, এমনকি বিয়ের কথাও ভাবছিলেন দু’জন। কিন্তু সানা জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর শ্রীকান্তের আচরণ বদলাতে শুরু করে বলে দাবি করেন তিনি। নিরাপত্তাহীনতা আর দূরত্বের জেরে ২০২৫ সালের শুরুতেই ভেঙে যায় তাঁদের সম্পর্ক।
এরপর র্যাপার নায়েজির সঙ্গে নাম জড়ালেও সানা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, তাঁদের মধ্যে শুধুই বন্ধুত্ব, ভাই-বোনের মতো সম্পর্ক। আজ সানা শুধু রিয়্যালিটি তারকা নন, দুই মিলিয়নের বেশি অনুরাগী নিয়ে সমাজমাধ্যমে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। ব্যক্তিগত টানাপোড়েন সত্ত্বেও ক্যামেরার সামনে তিনি আগের মতোই দৃঢ়।
পিআর/টিএ