দীর্ঘ কয়েক বছরের জল্পনা ও সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি ত্যাগ করেছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, বিদেশি সেনারা ঘাঁটিটি ছেড়ে যাওয়ার পর এখন এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরাকি সেনাবাহিনী।
২০২০ সালে বাগদাদে মার্কিন হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর এই ঘাঁটিটি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান এই ঘাঁটিতে সরাসরি কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল, যার তীব্রতায় সেখানে অবস্থানরত অনেক মার্কিন সেনার দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ও শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়।
ইরাকি সামরিক বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সেনা প্রত্যাহার চুক্তির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইরাকি সেনাবাহিনীর একজন কর্নেল নিশ্চিত করেছেন যে, মূল বাহিনী চলে গেলেও বর্তমানে হাতেগোনা কয়েকজন সদস্য কেবল লজিস্টিক ও কারিগরি কাজ গুছিয়ে নিতে সেখানে অবস্থান করছেন। এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই তারা চূড়ান্তভাবে ঘাঁটি ত্যাগ করবেন।
উল্লেখ্য, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং ২০২৬ সালের মধ্যে ইরাক থেকে সব বিদেশি সেনা সরিয়ে নেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। আইন আল-আসাদ ঘাঁটি থেকে মার্কিন বাহিনীর প্রস্থানকে ইরাকের জাতীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেএন/টিকে