বলিউডের ঝলমলে পার্টি, আলো-ঝলক আর তারকাদের অহর্নিশ ব্যস্ততার আড়ালে অনেক সময়ই চাপা পড়ে থাকে পরিচালকদের মানসিক চাপ ও টানাপোড়েন। এমনই এক অজানা অধ্যায়ের কথা সামনে এল করণ জোহরের মুখে, যেখানে সাফল্যের হাসির বদলে ছিল অসহায়তার কান্না।
১৯৯৫ সালে আদিত্য চোপড়ার কালজয়ী ছবি ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’-তে সহকারী পরিচালক হিসেবে পথচলা শুরু করেছিলেন কর্ণ। তিন বছর পর ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। শাহরুখ খান, কাজল ও রানি মুখোপাধ্যায়ের ত্রিভুজ প্রেমের গল্পে বিশেষ উপস্থিতিতে ছিলেন সালমান খানও। কিন্তু পর্দার বাইরের গল্পটা ছিল একেবারেই ভিন্ন।
ছবির জনপ্রিয় গান ‘সাজান জি ঘর অ্যায়’-এর শুটিং ঘিরে তৈরি হয়েছিল তীব্র অচলাবস্থা। পারিশ্রমিক ছাড়াই কাজ করছিলেন সালমান, তাই তাঁর দাবি ছিল, গোটা গানে তিনি টি শার্ট ও জিন্স পরেই শুটিং করবেন। অন্যদিকে করণ জোহর আগেই নায়কের জন্য স্যুট-প্যান্ট তৈরি করে রেখেছিলেন এবং সেটিই ছিল তাঁর ভাবনার সঙ্গে মানানসই।
শুটিংয়ের দিন সালমান সেটে এসে সরাসরি ভ্যানিটি ভ্যানে ঢুকে পড়েন এবং নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। কর্ণ বহুক্ষণ বোঝানোর চেষ্টা করেও কোনও সুরাহা করতে পারেননি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে হতাশা আর উদ্বেগে ভেঙে পড়ে তিনি হাউ হাউ করে কেঁদে ওঠেন।
পরিচালকের এই ভেঙে পড়া দেখে শেষমেশ মন গলে সালমানের। তিনি মত বদলে কর্ণের পরিকল্পনা অনুযায়ী স্যুট-প্যান্ট পরেই গানের শুটিং করেন। আজও সেই গান দর্শকদের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে, তবে তার পেছনের এই আবেগঘন মুহূর্ত এতদিন অজানাই ছিল।
পিআর/টিকে