২০২৫ সালে মাত্র ৪২ বছর বয়সে প্রয়াত হন অভিনেত্রী শেফালি জারিওয়ালা। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু বিনোদন জগৎ ও অনুরাগীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হলেও, শেফালির মৃত্যু ঘিরে এ বার সামনে এলো এক চাঞ্চল্যকর দাবি।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে শেফালির স্বামী পরাগ ত্যাগী জানান, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন—শেফালির উপর কেউ কালো জাদু করেছিল। পরাগের কথায়, অনেকেই এসব বিষয়ে বিশ্বাস না করলেও তিনি নিজে তা করেন। তাঁর বক্তব্য, যেখানে ঈশ্বর আছেন, সেখানে শয়তানও আছে। তবে কে বা কারা এই কাজ করেছে, সে বিষয়ে তিনি কোনও নাম উল্লেখ করেননি।
পডকাস্টে পরাগ দাবি করেন, শেফালির সঙ্গে বারবার কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছিল। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি একবার নয়, একাধিকবার ঘটেছে। শেষবার যেন সবচেয়ে ভয়ংকর কিছু হয়েছিল। পরাগ বলেন, ধ্যানে বসলে তাঁর মনে হয়, কোথাও একটা মারাত্মক ভুল হয়ে গেছে।
পরাগ আরও জানান, এই ঘটনার সূত্রপাত ২৭ জুনের অনেক আগেই। তাঁর দাবি অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর মাসে এক ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে এসে শেফালিকে বলেন, ঘরে পঞ্চমুখী হনুমান রাখা ঠিক নয়। সেই কথায় প্রভাবিত হয়ে শেফালি তাঁকে রাজি করান বহু বছর ধরে ঘরে থাকা পঞ্চমুখী হনুমানজির মূর্তি অন্যত্র সরিয়ে রাখতে।
পরাগের বক্তব্য অনুযায়ী, মূর্তিটি সরানোর পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বাড়িতে ফিরে মাত্র কয়েক মিনিট থাকতে পেরেছিলেন। কাঁদতে কাঁদতে আবার গাড়ি নিয়ে সেখানে যান, কিন্তু তখন আর হনুমানজির মূর্তিটি খুঁজে পাননি। পরে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সেই মূর্তির খোঁজ চালিয়েছেন বলেও জানান।
এই ঘটনার পর হনুমানজির কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন বলেও দাবি করেন পরাগ। তাঁর কথায়, তিনি বলেছিলেন, খুব বড় ভুল হয়ে গেছে এবং যেদিন ক্ষমা করবেন, সেদিন আবার তাঁর কাছে ফিরে আসবেন। এর কিছুদিন পরই শেফালির মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।
পরাগ আরও দাবি করেন, শেফালির মৃত্যুর প্রায় এক মাস পর একজন তাঁকে আবার একটি পঞ্চমুখী হনুমানজির মূর্তি উপহার দেন। সেই সময় তিনি হনুমানজিকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি কৃতজ্ঞ, কিন্তু অনেক দেরি করে ফিরে এসেছেন।
পডকাস্টে পরাগ স্পষ্ট করে বলেন, শেফালির সঙ্গে কেউ খারাপ কিছু করেছে—এ বিষয়ে তিনি শতভাগ নিশ্চিত। যাঁর হাত এই ঘটনার পেছনে রয়েছে, তাঁকে কোনও দিন ক্ষমা করবেন না বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২৭ জুন আকস্মিকভাবে শেফালি জারিওয়ালার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি জানা যায়, শেফালি নিয়মিত কিছু ওষুধ ও বয়স প্রতিরোধী ইনজেকশন নিতেন, যা মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এসএন