মহামারি পরবর্তী সময়ে পর্দার তারকারা যখন একের পর এক ছবিতে হাজির হয়ে দর্শকের চোখে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন, তখন আল্লু অর্জুন যেন হাঁটছেন একেবারেই ভিন্ন পথে। দ্রুততার বদলে গভীরতা, সংখ্যার বদলে মান- এই নীতিই এখন তাঁর ক্যারিয়ারের কেন্দ্রে। ২০২১ সালের ১৭ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া পুষ্পার প্রথম পর্বের ঝড়ো সাফল্যের পর দর্শককে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় রেখেছেন তিনি। ১০৮৪ দিনের অপেক্ষা শেষে ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর আসছে এর দ্বিতীয় পর্ব, যা ঘিরে প্রত্যাশার পারদ এখন তুঙ্গে।
কিন্তু চমক শুধু এখানেই থেমে নেই। দ্বিতীয় পর্বের পর তাঁর পরবর্তী ঘোষিত ছবিটি মুক্তির তালিকায় রাখা হয়েছে ২০২৭ সালে। আবারও দীর্ঘ বিরতি, আবারও ধৈর্যের পরীক্ষা। তবে এই বিরতি নিছক সময়ক্ষেপণ নয়, বরং বড় পরিকল্পনার ইঙ্গিত। আল্লু অর্জুন স্পষ্টতই ছোট ছোট সাফল্যের বদলে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে এমন বিশাল প্রকল্পে মনোযোগী।
সর্বভারতীয় বাজারে শক্ত অবস্থান গড়ার লক্ষ্যেই তিনি এখন কম ছবি করছেন, কিন্তু প্রতিটি ছবিই রাখছেন বড় ক্যানভাসে। পরিচালক বাছাই থেকে শুরু করে চিত্রনাট্য নির্মাণ—সবকিছুতেই দেখা যাচ্ছে সতর্ক ও ভাবনাচিন্তাপূর্ণ সিদ্ধান্ত। জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই অভিনেতা তাড়াহুড়ো করছেন না, বরং সময়কে কাজে লাগাচ্ছেন পর্দায় আরও পরিণত, আরও শক্তিশালী উপস্থিতি গড়তে।
শিল্পে যখন অতিরিক্ত উপস্থিতির ঝুঁকি বাড়ছে, তখন আল্লু অর্জুনের ধীর অথচ দৃঢ় কৌশল তাঁকে আলাদা করে তুলছে। বড় পরিসর, শক্ত গল্প আর যত্নে বাছা নির্মাতার সমন্বয়ে তিনি যে পথ বেছে নিয়েছেন, সেটিই হয়তো দীর্ঘদিনের তারকাখ্যাতি ধরে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হয়ে উঠবে।
টিজে/টিএ