সুন্দরবন থেকে এবার ট্রলারসহ ৫ জেলে অপহরণের শিকার হয়েছেন। অভিযোগের তীর আবারও বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর দিকে। তাদের মুক্তির জন্য ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা।
গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সুন্দরবনের পূর্বাঞ্চলের শেলারচর এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করে বনের গহীনে নিয়ে যায়। সুন্দরবনে গত এক সপ্তাহের মধ্যে এটা দ্বিতীয় অহরণের ঘটনা।
অপহৃত জেলেদের মহাজন রামপাল এলাকার মাছ ব্যবসায়ী নুরুল হক শেখ জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বহরে থাকা ৮ জন জেলে সুন্দরবনের শেলারচরের কালামিয়ার ভাড়ানি এলাকায় মাছ ধরছিল। এ সময় বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী একটি ট্রলার যোগে এসে জেলেদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি আরও জানান, এরপর তারা ৮ জনের মধ্যে ৩ জনকে অন্য একটি নৌকায় উঠিয়ে দিয়ে ৫ জনকে মাছ ধরার ট্রলারসহ অপহরণ করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা ওই তিন জেলের কাছে তাদের মোবাইল নম্বর দিয়ে জানায়, ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলে জেলেদের ছেড়ে দেয়া হবে।
অপহরণের শিকার জেলেরা হলেন- মো: কচি (৪৫), হিরক (৩৫), সালাম (৪০), রবিউল (৩৫) ও মুজাহিদ (২৬)। তাদের সবার বাড়ি বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার বাশতলী এলাকায়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম শেলারচরে ৫ জেলের অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে অন্যান্য প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এছাড়া বন বিভাগের অভিযান চলছে। যতদ্রুত সম্ভব বনদস্যুদের কবল থেকে জেলেদের মুক্ত করা হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সুন্দরবনের দুবলার চরের আমবাড়ীয়া এলাকায় অপহরণের ঘটনা ঘটে। বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী দুই জেলেকে অপহরণ করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে।
অপহরণের শিকার জেলেরা হলেন শরণখোলা উপজেলার রাজৈর গ্রামের আঃ কাদের (৩৫) ও খোন্তাকাটা গ্রামের রবিউল মোল্লা (৩০)। এক লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়ে রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে বাড়ি ফেরেন।
ফিরে আসা জেলেদের মহাজন পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মস্লুইস এলাকার শহিদ নাজির জানান, তার দুই জেলেকে মুক্ত করতে দস্যুদের দেয়া দুইটি বিকাশ নম্বরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠানো হয়। এরপর দস্যুরা জিম্মি দুই জেলেকে একটি নৌকায় উঠিয়ে দেয়।
সুন্দরবনের দুবলার চর জেলেপল্লী ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের দাপটে জেলেরা মাছ ধরতে যেতে পারছে না। দস্যুদের দমন করা না গেলে এ বছর দুবলার রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হবে।
টিজে/টিএ