ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়া সম্প্রতি নিজের অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের একটি অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সাহস, আত্মমর্যাদা ও ব্যক্তিগত সীমার প্রতি অবিচল থাকার এই ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এনেছে চলচ্চিত্র শিল্পে নারীদের অবস্থান ও সংগ্রামের বাস্তব চিত্র।
অল্প বয়সেই অভিনয়জগতে পা রাখা তামান্না ভাটিয়াকে ক্যারিয়ারের শুরুতে প্রায়ই বয়সে অনেক বড় সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে।
সেই সময় নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। এমনই এক ঘটনায় একটি চলচ্চিত্রের শুটিং চলাকালে তাঁকে একটি অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলেন না।
তামান্না দৃশ্যটি করতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট পরিচালক পুরো শুটিং ইউনিটের সামনে রূঢ় ভাষায় বলেন, নায়িকা বদলে দেওয়া হবে। তবে এই চাপের মুখেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি তামান্না ভাটিয়া। শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে তিনি স্পষ্ট করে জানান, নিজের সম্মতি ছাড়া এমন কোনো দৃশ্যে অভিনয় করবেন না।
ঘটনার কয়েক দিন পর সেই একই পরিচালক তামান্নার কাছে এসে ক্ষমা চান। নিজের আচরণের জন্য অনুতপ্ত হয়ে তিনি স্বীকার করেন, অভিনেত্রীর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোই উচিত ছিল। এই ঘটনাটি তামান্নার জীবনে শুধু ব্যক্তিগত এক বিজয় নয়, বরং চলচ্চিত্র শিল্পে কর্মরত অসংখ্য নারীর জন্য সাহস ও আত্মসম্মানের এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
তামান্না ভাটিয়ার এই অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, পেশাগত সাফল্যের জন্য আত্মমর্যাদা বিসর্জন দেওয়া কখনোই প্রয়োজন নয়। নিজের সীমা নির্ধারণ করা এবং প্রয়োজন হলে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলা একজন শিল্পীর অধিকার। আলো ঝলমলে পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই দৃঢ়তার গল্প এখন অনেক নারীর জন্য শক্তির উৎস হয়ে উঠছে।
এমআর/টিএ