সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ বলেন, গণভোট মানে স্বৈরাচার মুক্ত গণতন্ত্রমুখী একটি নতুন বাংলাদেশ। গণভোট মানে একটি রাজনৈতিক দল দুই টার্মের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। অর্থাৎ দশ বছরের বেশি একজন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না। স্বৈরাচার ধারাটা যেন আর জন্ম না নেয়। আমরা দেখেছি ১৫/১৬ বছর ক্ষমতায় থাকলে কি ধরনের উগ্র স্বৈরাচার থাকে এবং দেশ কিভাবে ধ্বংসের দিকে যায়। আর সেদিকে আমরা ফিরব না। আমরা ৫ আগস্ট এর আগে ফিরে যাব না।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে গণভোট প্রচার এবং ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শারমিন এস মুরশিদ বলেন, সংস্কার করতে হলে আপামর জনগণের অংশগ্রহণ লাগবে। আমরা এমন একটি সরকার এসেছি, ভেঙে যাওয়া রাষ্ট্রকে ট্রাকে তুলে সংস্কারের মাধ্যমে গণতন্ত্রমুখী রাষ্ট্র গড়তে। এই নতুন বাংলাদেশ গড়তেই আজ এই গণভোট। এখানে আপামর জনগণ বিষয়টি বুঝে এর পক্ষে ভোট দেয় তাহলে আমরা একটি বিশাল পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হব। আর যারা এটার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে তাহলে বোঝা যাবে তারা গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে। এই যে ছেলেরা প্রাণ দিয়ে দিলো, অপশাসন হতো তাতে তাদের কিন্তু আসে যায় না।
তিনি আরও বলেন, গণভোট মানে নতুন বাংলাদেশ দেখা। গণভোট মানে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা দেয়া সেই রকম বাংলাদেশ। আর রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ভাবা দরকার এই গণভোট মানে সকালের সুযোগ। সব রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ এই গণভোট।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক মোহিনী তাবাসসুম, সমন্বয়ক আরাফাত হোসাইন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম মনিরুল ইসলাম মিনি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমত উল্লাহ পলাশ, জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, বিএনপি নেত্রী ফরিদা আক্তার বিউটি, জামায়াত নেত্রী জয়নব পারভীন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া, সাতক্ষীরা সদর সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল নাবিদ হাসান, বিমান বাহিনীর লেফটেন্যান্ট রনক হাসান, পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েলসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধিসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এমআর/টিএ