যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গ্রিনল্যান্ড কেনা নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিকে ‘পুরোপুরি ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে স্টারমার এই পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন যে, মিত্রদের মধ্যে বিরোধ মেটানোর জন্য এটি কোনো সঠিক পথ হতে পারে না।
ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কেনার চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ব্রিটেনসহ আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক এবং জুনে তা ২৫ শতাংশে উন্নীত করার যে ঘোষণা ট্রাম্প দিয়েছেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তার কড়া সমালোচনা করেছেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তার তথ্য জানানো হয়েছে।
স্টারমার তার ভাষণে বাণিজ্য যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন যে, এ ধরনের সংঘাত কারও স্বার্থই রক্ষা করবে না। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে এবং নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী শ্রেণীই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ মর্যাদা নির্ধারণের অধিকার কেবল ওই অঞ্চলের জনগণ এবং ডেনমার্কের রয়েছে। তিনি মনে করেন না যে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবেন এবং এই সংকট নিরসনে মিত্রদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
শুল্ক নিয়ে কঠোর সমালোচনা করলেও স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও গভীর সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।তিনি জানান যে, দুই দেশ ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং এই অংশীদারত্ব অত্যন্ত মজবুত। আগামী এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাজার রাষ্ট্রীয় সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা লন্ডনের জন্য জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং গাজায় যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে সমর্থনের পাশাপাশি ইউক্রেন ইস্যুতে পুতিনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে মিত্রদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।
কিয়ার স্টারমার ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক সক্ষমতা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে মার্কিন সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও গঠনমূলক রাখতে তার সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাণিজ্যিক টানাপড়েন সত্ত্বেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান উত্তেজনার অবসান ঘটবে।
স্টারমার বলেন, আধুনিক বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন এবং আর্কটিক অঞ্চলের গুরুত্ব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা রক্ষা করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে।
সূত্র: বিবিসি।
এমআর/টিএ