যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে তিলক পরার কারণে এক হিন্দু ছাত্রকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ হিন্দু ও ভারতীয় কমিউনিটির প্রতিনিধিত্বকারী সামাজিক ও অধিকারকর্মী সংগঠন ইনসাইট ইউকের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
সংগঠনটি জানিয়েছে, লন্ডনের ভিকার্স গ্রিন প্রাইমারি স্কুলের কর্মীরা আট বছরের শিশুটিকে তার ধর্মীয় চর্চা ব্যাখ্যা ও যুক্তি দেখাতে বলেন। এটি একজন নাবালকের সঙ্গে ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত’ আচরণ। অভিযোগ অনুযায়ী, স্কুলটির প্রধান শিক্ষক বিরতির সময় শিশুটিকে নজরদারিতে রাখতেন, যা তার কাছে ভীতিকর মনে হয়। এর ফলে সে খেলাধুলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয় এবং সহপাঠীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
আরও অভিযোগ করা হয়েছে, শুধু ধর্মীয় চর্চার কারণেই শিশুটিকে স্কুলের দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি প্রমাণিত হলে তা যুক্তরাজ্যের ইকুয়ালিটি অ্যাক্ট ২০১০ অনুযায়ী সরাসরি ধর্মীয় বৈষম্য হিসেবে গণ্য হবে, কারণ ওই আইনে ধর্ম একটি সুরক্ষিত বৈশিষ্ট্য।
ইনসাইট ইউকের এক মুখপাত্র বলেন, ‘কোনো শিশুই তার বিশ্বাসের কারণে নজরদারিতে থাকা, আলাদা করে দেখা হওয়া বা একঘরে হওয়ার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা নয়-বিশেষ করে কর্তৃত্বশীল কারও কাছ থেকে। এ ধরনের অভিজ্ঞতা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে এবং গুরুতর সুরক্ষা–সংক্রান্ত প্রশ্ন তোলে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক এবং অন্যান্য হিন্দু অভিভাবকরা তিলক–চাঁদলোর ধর্মীয় তাৎপর্যসহ হিন্দু ধর্মীয় চর্চা সম্পর্কে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও গভর্নরদের বোঝাতে একাধিকবার যুক্তিসংগত উদ্যোগ নেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, গঠনমূলক আলোচনায় না গিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ তা খারিজ করে দেয় এবং হিন্দু ধর্মীয় অনুশীলন বুঝতে বা স্বীকার করতে অনীহা দেখায়।
ইনসাইট ইউকের ভাষ্য, ‘এটি সৎ উদ্দেশ্যের সংলাপ ছিল না; এখানে ক্ষমতার অসমতা ছিল, যেখানে হিন্দু ধর্মীয় চর্চাকে খুঁটিয়ে দেখা, খাটো করা এবং শেষ পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।’
সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, ভিকার্স গ্রিন প্রাইমারি স্কুলে ধর্মীয় বৈষম্যের কারণে অন্তত চারজন শিক্ষার্থী স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি