মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন বলেছেন, শিক্ষা ব্যবস্থার মূল কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের রাখতে হবে। কারণ, প্রতিটি শিশুই আলাদা। তাদের শেখার গতি ও সক্ষমতাও ভিন্ন। তাই শ্রেণিকক্ষের শিক্ষণপ্রক্রিয়া হতে হবে আনন্দময়, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক ও সহানুভূতিশীল।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা সচিব বলেন, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ একটি উৎসবের আয়োজন হলেও এটি একইসঙ্গে আমাদের শিক্ষাদান কাঠামো ও শিক্ষা দর্শনকে পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ করে দিয়েছে। সারা দেশে প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু হয়ে উপজেলা, জেলা, অঞ্চল পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে গতকাল প্রায় ৯০০ প্রতিযোগী অংশ নেন। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী সবাই প্রশংসার দাবিদার।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় শুদ্ধ ও সুনিপুণ মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলা। যে কাজই করা হোক না কেন, শতভাগ মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে করতে হবে এবং নিজেদের শক্তির ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। যারা জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী হয়েছেন, তাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। শিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তকে সীমাবদ্ধ নয়। এবার জেলা পর্যায় থেকে ফিরে যাওয়া প্রতিযোগীরা যেন ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করতে পারে এবং জাতীয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্ব দরবারে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারে সে লক্ষ্যে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রেহানা পারভীন বলেন, শিক্ষকরা কেবল জ্ঞানদাতা নন, তারা শিক্ষার্থীদের পথপ্রদর্শক। অবকাঠামো বা সুযোগ-সুবিধা যেমনই হোক, গঠনমূলক চিন্তা ও উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দদায়ক করে তুলতে হবে।
শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধানে থাকা প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যেন সর্বোত্তম পর্যায়ে উন্নীত করা যায়, সে লক্ষ্যে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
আরআই/টিকে