ইরানে সাম্প্রতিক দেশব্যাপী বিক্ষোভে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মোহসেনি-এজেই জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর বিষয়ে বিচার বিভাগের মূল কাজ মাত্র শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এ এক পোস্টে মোহসেনি এজেই বলেন, 'যৌক্তিক কারণ ছাড়া যদি আমরা এমন কাউকে ছাড় দিই যিনি ক্ষমার যোগ্য নন, তবে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হবে।'
দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, বিক্ষোভে জড়িত 'খুনি এবং সন্ত্রাসী রাষ্ট্রদ্রোহীদের' বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যারা বিদেশী শক্তির দ্বারা 'প্রতারিত' হয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ইসলামী সহানুভূতি' বিবেচনা করা হতে পারে।
পুলিশ প্রধান আহমাদরেজা রাদান ঘোষণা করেছেন, 'প্রতারিত' বিক্ষোভকারীরা যদি তিন দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করে, তবে তাদের শাস্তি কমানো হবে। তিনি দাবি করেন, আটককৃতদের অনেকেই সহিংসতা, হত্যা ও লুটপাটের কথা স্বীকার করেছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আটককৃতদের স্বীকারোক্তি প্রচার অব্যাহত রয়েছে।
এর পাশাপাশি, বিক্ষোভের সময় হওয়া আর্থিক ক্ষতি পোষাতে আন্দোলনকারীদের সমর্থনকারীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর বিপুল সম্পদ এবং সাবেক ফুটবলার ভরিয়া গফুরির ক্যাফে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনের অবসানের ডাক দেওয়ার পর তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির গার্ডিয়ান কাউন্সিল একে 'লাল রেখা' অতিক্রম করা হিসেবে অভিহিত করেছে। এদিকে, দেশজুড়ে ইন্টারনেটের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ বা ব্ল্যাকআউট এখনো বহাল রয়েছে এবং সরকারি নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে ইরানসেলের প্রধান নির্বাহীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এসকে/এসএন