হঠাৎ করেই মঙ্গলবার বিকেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের দ্বিতীয় বিয়ের ছবি প্রকাশ করেন ওপার বাংলার অভিনেতা ও সাংসদ হিরণ চট্টোপাধ্যায়। বিয়ের সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা।
তাঁর স্পষ্ট দাবি— হিরণের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়নি।
অনিন্দিতা বলেন, “অনেক দিন ধরেই আমার ও আমার মেয়ের ওপর মানসিক অত্যাচার চলছিল।
কিন্তু শুধুমাত্র মেয়ের কথা ভেবে এবং পরিবারের সম্মান রক্ষার জন্য এত দিন নীরব ছিলাম।”
তিনি আরো জানান, তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের কোনো আইনি প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। অনিন্দিতার কথায়, “২০০০ সালের ১১ ডিসেম্বর আমাদের বিয়ে হয়েছিল। গত বছর আমাদের বিবাহের ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে।
আমাদের ১৯ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। কিন্তু ডিভোর্সের কোনো আইনি পদক্ষেপ কখনো নেওয়া হয়নি।”
এখানেই থামেননি অনিন্দিতা। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তাঁর মেয়ে মানসিক অত্যাচারের শিকার হয়েছেন।
তাঁর বক্তব্য, “অনেকে ভাবেন শারীরিক নির্যাতন মানেই অত্যাচার। কিন্তু মানসিক অত্যাচার যে কতটা ভয়ংকর, তা বলে বোঝানো যায় না। তবু আমি নিজেকে ঠিক রাখার চেষ্টা করেছি।”
নিজের জীবনের কথা বলতে গিয়ে অনিন্দিতা জানান, আগে তিনি ‘বিশ্ববাংলা’-য় কাজ করতেন। পরে সেই চাকরি ছেড়ে নিজস্ব ক্যাফে ও শাড়ির ব্যবসা শুরু করেন।
তাঁর কথায়, “এই যন্ত্রণা থেকে নিজেকে দূরে রাখতেই কাজে ডুবে থাকার চেষ্টা করেছি। আমি চাইনি নিজের বা মেয়ের গায়ে কোনো কাদা লাগুক।”
তবে হিরণের দ্বিতীয় বিয়ের ঘোষণার পর আর নীরব থাকা সম্ভব নয় বলেই জানান তিনি। অনিন্দিতার স্পষ্ট মন্তব্য, “ও (হিরণ) যা করেছে, তাতে এবার আমাকে নড়েচড়ে বসতেই হবে। বহুদিন ধরে চাপা দেওয়া ছিল সব কিছু। ও নিজেই সব বাঁধ ভেঙে দিয়েছে। এই বিয়ে বেআইনি। এই বিয়ের কোনো মানে নেই।”
অনিন্দিতা আরো দাবি করেন, তাঁদের সম্পূর্ণ আলাদা থাকা নিয়েও তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মাঝেমধ্যেই হিরণ খড়গপুর থেকে কলকাতায় তাঁদের বাইপাসের ফ্ল্যাটে আসতেন।
“এক মাস আগেও এসেছিল। মেয়ের সঙ্গে দেখা করতেই মূলত আসত। নতুন বছরের উদ্যাপনও আমরা একসঙ্গেই করেছি।”
সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক দিক হিসেবে অনিন্দিতা উল্লেখ করেন তাঁদের মেয়ের মানসিক অবস্থার কথা। তাঁর অভিযোগ, “যে মেয়েটির সঙ্গে হিরণ ছবি দিয়েছে, সে প্রায় আমাদের মেয়ের বয়সী। আমাদের ১৯ বছরের মেয়ে এখন মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী। তার মনে কী প্রভাব পড়ছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ওকে সামলানোই এখন আমার সবচেয়ে বড় লড়াই।”
এই মুহূর্তে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে অনিন্দিতার অভিযোগ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে দ্বিতীয় বিয়ে ও প্রথম বিবাহের আইনি অবস্থান— দুই বিষয় নিয়েই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, অভিনেতা-সাংসদের ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। সত্যিই কি আইনি বিচ্ছেদ ছাড়াই দ্বিতীয়বার বিয়ের পথে হাঁটলেন হিরণ— সেই উত্তর আপাতত সময়ের অপেক্ষা।
এসএন