প্রতিবেশী দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ভারতীয় বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে পাকিস্তান।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পাকিস্তান সিভিল এভিয়েশন অথরিটি বা পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (পিএএ) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টা (পাকিস্তান স্থানীয় সময়) পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
পিএএ স্পষ্ট করেছে, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ভারতীয় মালিকানাধীন, ভারতে নিবন্ধিত, ভারতীয় অপারেটর দ্বারা পরিচালিত এবং লিজ নেওয়া সব ধরনের বিমান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বেসামরিক যাত্রীবাহী বিমানের পাশাপাশি ভারতীয় সামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রেও এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। এর ফলে গত নয় মাস ধরে দুই দেশের আকাশসীমায় যে অচলাবস্থা বিরাজ করছিল, তা আরও দীর্ঘায়িত হলো। মূলত, পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে সময়সীমা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা শুরু হবে ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে।
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের ভয়াবহ ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত। ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের (আইআইওজেকে) পেহেলগাঁও এলাকায় একটি বড় ধরনের হামলার ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটে। পরিস্থিতির অবনতি হলে নয়াদিল্লি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ 'সিন্ধু পানি চুক্তি' বা ইন্ডাস ওয়াটার ট্রিটি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। ভারতের এই পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর জন্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে উত্তেজনার পারদ আরও চড়তে থাকে যখন ৩০ এপ্রিল ভারতও পাকিস্তানি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে। এরপর ৬ ও ৭ মে তারিখে ভারত পাকিস্তানের একাধিক শহরে হামলা চালালে পরিস্থিতি যুদ্ধের রূপ নেয়। জবাবে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী 'অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস' নামে একটি ব্যাপকভিত্তিক পাল্টা সামরিক অভিযান পরিচালনা করে এবং ভারতের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, সেই সংঘাতে তারা ভারতের সাতটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছিল, যার মধ্যে তিনটি অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমানও ছিল। এছাড়া বহু ভারতীয় ড্রোন ধ্বংস করার দাবিও করে ইসলামাবাদ। প্রায় ৮৭ ঘণ্টা ধরে চলা তীব্র সংঘাতের পর গত ১০ মে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতির সাময়িক অবসান ঘটে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, তার মধ্যস্থতাতেই এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধ এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পরবর্তী সময়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন পাকিস্তান একইভাবে আকাশসীমা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
তথ্যসত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এসকে/এসএন