এ দেশের চলচ্চিত্র জগৎ যে কজন অভিনেতার দ্বারা বর্ণিল হয়েছে তাদের একজন জাভেদ। জন্ম পাকিস্তানে হলেও থেকে গেছেন এ দেশে। এ দেশের মাটিকে আপন করে নিয়েছিলেন। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন এ দেশের মাটিতেই।
একসময় পুরান ঢাকায় ছিলেন জাভেদ। পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজার এলাকায় ছিল তাদের বাড়ি। তাই ওই এলাকার নাম জাভেদের নামেই হয়ে যায় জাভেদ মহল্লা। এ বিষয়ে জাভেদ বলেছিলেন, পুরান ঢাকায় (সিদ্দিকবাজার) আমার জীবনের অনেক স্মৃতি আছে।
এইগুলো তো আর ভুলে যাওয়ার কথা নয়। ওখানকার লোকজন আমাকে ভালোবেসেছে ও সম্মান জানিয়েছে। সেখানে একটি মহল্লার নাম আমার নামে করেছে। শারীরিকভাবে যতটা সময় পর্যন্ত পুরোপুরি ঠিকঠাক ছিলাম, সময় পেলেই ওই এলাকায় যেতাম।
সেখানকার মানুষ ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতাম। এখন আর যাওয়া হয় না। সেই মহল্লাটা ‘জাভেদ মহল্লা’ নামে পরিচিত।
পরে জাভেদ বসবাস করতেন উত্তরায়। উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরে।
জাভেদ অভিনীত আলোচিত চলচ্চিত্র হলো- ‘মালকা বানু’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘শাহজাদী’, ‘নিশান’, ‘রাজকুমারী চন্দ্রভান’, ‘কাজল রেখা’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘নরম গরম’, ‘তিন বাহাদুর’, ‘চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা’, ‘আজো ভুলিনি’, ‘চোরের রাজা’ ও ‘জালিম রাজকন্যা।
জাভেদ অভিনয় করেছেন, শাবানা, ববিতা, কবরী, অলিভিয়া, অঞ্জু ঘোষ, রোজিনা, নূতন ও সুচরিতার সঙ্গে। ১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত উর্দু ছবি ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে অভিষেক ইলিয়াস জাভেদের। এরপর দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত তিনি সিনেমায় সুবর্ণ সময় কাটিয়েছেন।
তার আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। নৃত্য পরিচালনা দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে অভিষেক ঘটলেও পরবর্তী সময়ে নায়ক হিসেবে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন শতাধিক চলচ্চিত্রে। তিনি তার অনেক কাজের মধ্যে ‘নিশান’ চলচ্চিত্রের জন্য বেশি পরিচিত। জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে তিনি সপরিবারে সেখান থেকে পাঞ্জাবে চলে আসেন।
এমকে/টিএ