“উনি আমাদের স্টারদের স্টার ছিলেন। আপনারা যদি আমাদের স্টার বলেন, তাহলে আমি মনে করি ইলিয়াস জাভেদ হচ্ছেন স্টারদের স্টার।”
এফডিসিতে বুধবার বিকেলে চিত্রতারকা জাভেদকে শেষ শ্রদ্ধা ও জানাজায় অংশ নিতে এসে এভাবেই বললেন নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানী।
এসময় জাভেদের ‘আজীবন সম্মাননা’ পাওয়া নিয়ে কিছুটা আক্ষেপও প্রকাশ করেন সানি। তিনি বলেন, জাভেদ সাহেব আমাদের আইকন ছিলেন। আমার মনে হয়, জীবদ্দশায় তাঁর লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পাওয়া উচিত ছিলো। এজন্য আক্ষেপটা আমাদেরই বেশী।”
ব্যক্তিজীবনে খুব কাছ থেকে জাভেদকে দেখেছেন ওমর সানি। জানান, তার কয়েকটি সিনেমাতেও কোরিওগ্রাফির দায়িত্ব সামলেছেন জাভেদ। সেই সময়ের একটি স্মৃতির কথা বলে সানি বলেন,“তিনি আমার একটি সিনেমায় কোরিওগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন, তাকে একদিন ‘ভাই’ সম্বোধন করলে তিনি আমাকে বলেন ‘না, তোমাকে আমি একটা রিকোয়েস্ট করবো, তুমি আমাকে বাবা বলবা।’ এরপর থেকে তার সাথে দেখা হলেই বলতাম, ‘বাবা, কী খবর?’-এরকম সম্পর্ক ছিলো আমাদের।
শেষ দিকে ৫-৬ বছর খুব একটা যোগাযোগ না থাকলেও খোঁজ রাখতেন এই তারকার। এসময় তিনি জাভেদ পত্নী ডলি জাভেদের কথা আলাদা করে বলেন। তিনি বলেন, “আন্টি (ডলি চৌধুরী) নিজেও কিন্তু জৌলুস নিয়ে চলচ্চিত্রে এসেছিলেন। জাভেদ সাহেবকে বিয়ে করে ৪২ বছর ধরে সংসার করছেন, এরমধ্যে শেষ ১৮ বছর ধরে জাভেদ সাহেব অসুস্থ। এই সময়টা তিনি বাচ্চা একটা শিশুর মতো করে সেবা করেছেন। আন্টি বলছিলেন, যেন আমার কষ্ট না হয় এজন্য জাভেদ সাহেব সৃষ্টি কর্তার কাছে প্রার্থনা করতেন যেন দ্রুত তাকে নিয়ে যায়।”
ঢালিউডের সোনালি দিনের দাপুটে নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ মারা গেছেন। দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে বুধবার (২১ জানুয়ারি) শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জিন্দেগি’র মাধ্যমে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে ইলিয়াস জাভেদের। তবে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ সিনেমার মাধ্যমে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে; একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা দিয়ে দর্শকদের হৃদয়ে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে স্থায়ী আসন গেড়ে নেন তিনি।
সত্তর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে জাভেদ মানেই ছিল পর্দা কাঁপানো নাচ আর অ্যাকশনের অনবদ্য এক মিশ্রণ। তার প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
আরআই/টিএ