বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত একটি নাম, একটি অনুভূতি। আজও অসংখ্য সিনেপ্রেমীর হৃদয়ে তিনি অমলিন। বেঁচে থাকলে আজ চল্লিশ বছরে পা দিতেন এই প্রতিভাবান অভিনেতা। জন্মদিন ঘিরে তাই স্মৃতিচারণায় মেতেছেন সহকর্মী তারকারা থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শকরাও। খুব অল্প সময়ের অভিনয়জীবন হলেও নিজের মেধা, পরিশ্রম আর অভিনয়ের গভীরতায় তিনি বলিউডে তৈরি করে গিয়েছেন আলাদা এক অবস্থান।
ছোট পর্দা থেকে বড়পর্দায় তাঁর যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। ধারাবাহিকের পরিচিত মুখ থেকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা হিসেবে তুলে ধরতে লড়াই করতে হয়েছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু সীমিত সংখ্যক সিনেমাতেই সুশান্ত প্রমাণ করে দিয়েছেন, অভিনয়ের জোর থাকলে জায়গা করে নিতে সময় লাগে না। জন্মদিনে তাই ফিরে দেখা যায় তাঁর সেই সব চরিত্র, যেগুলো আজও দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে।
দুই হাজার তেরো সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবিতেই তিন বন্ধুর স্বপ্ন, বন্ধুত্ব আর জীবনের টানাপোড়েনের গল্পে স্বাভাবিক অভিনয় দিয়ে নজর কেড়েছিলেন তিনি। এখান থেকেই শুরু হয় বড়পর্দায় তাঁর পথচলা। এরপর গোয়েন্দা চরিত্রে বুদ্ধিমত্তা আর সূক্ষ্ম অভিনয়ের মেলবন্ধনে দর্শককে চমকে দেন তিনি, যা আজও তাঁর অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে বিবেচিত।
ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের এক কিংবদন্তি চরিত্রে অভিনয় করে সুশান্ত পৌঁছে যান জনপ্রিয়তার শিখরে। চরিত্রের হাঁটাচলা, কথা বলার ভঙ্গি থেকে শুরু করে মাঠের প্রতিটি নড়াচড়া এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন যে দর্শক ভুলেই গিয়েছিলেন পর্দায় একজন অভিনেতাকে দেখছেন। এই ছবিই তাঁর অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হয়।
পরবর্তী সময়ে এক সরল পরিশ্রমী যুবকের চরিত্রে পাহাড়ি প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা প্রেম আর আত্মত্যাগের গল্পে দর্শকের চোখ ভিজিয়েছেন তিনি। আবার এক দ্বিধাগ্রস্ত দস্যুর চরিত্রে মানবিক টানাপোড়েন আর মুক্তির আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরে প্রমাণ করেছেন চরিত্রের ভেতরে ঢুকে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা।
সবশেষে এক বাবার ভূমিকায় জীবনের ব্যর্থতা আর লড়াইয়ের গল্প দিয়ে নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সেই চরিত্র যেন আজও দর্শকের কাছে জীবনের পাঠ হয়ে রয়ে গেছে।
ছোট পর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিকে মানব চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন সুশান্ত। দীর্ঘ সময় সেই চরিত্রে অভিনয়ের পরই তিনি মন দেন চলচ্চিত্রে। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে নিজের জায়গা শক্ত করেন।
দুই হাজার বিশ সালের চৌদ্দ জুন মুম্বইয়ে ভাড়ার ফ্ল্যাট থেকে সুশান্তের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয় বিস্তর রহস্য ও আলোচনার ঝড়। তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় সংস্থার প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, মানসিক অবসাদ থেকেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। তবে তাঁর মৃত্যুর পর বলিউডে স্বজনপ্রীতি নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়, তা দীর্ঘ সময় ধরে চলচ্চিত্র অঙ্গনকে নাড়িয়ে দেয়।
আজ জন্মদিনে সুশান্ত সিং রাজপুতকে তাই শুধু একজন অভিনেতা হিসেবে নয়, বরং এক অনুপ্রেরণার নাম হিসেবেই স্মরণ করছেন তাঁর অনুরাগীরা। অভিনয়ের জাদুতে তিনি আজও অমর।
এমকে/টিএ