ইদানীং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের একেকটি সভা শুরু হলে যেন আর শেষই হতে চায় না। বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া সভা কখনো কখনো রাত ১০টা পেরিয়েও থামে। এত লম্বা বৈঠকের ধকল কাটিয়ে উঠতে জানা বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের ওপর দিয়ে আজ অল্প সময়ের এক সভাই বরং ঝড় বইয়ে দিয়েছে।
কারণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে ভারতে যেতে না চাওয়া বাংলাদেশ ইস্যুতে আজ আইসিসির বোর্ড অব ডিরেক্টরসের যে সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছিলেন আমিনুল, সেটির দৈর্ঘ্য পেরোয়নি ঘণ্টাও।
বাংলাদেশ দলের এই সাবেক অধিনায়ক নিজেই বলছিলেন, ‘আইসিসির সভায় যোগ দিয়েছিলাম। আধ ঘণ্টার মতো বৈঠক করেছি।’
যদিও সেই বৈঠক থেকে বাংলাদেশের জন্য কোনো সুখবর মেলেনি। বরং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভোটাভুটির আয়োজন করে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাওয়ার প্রস্তাব খারিজই করে দিয়েছে আইসিসি।
বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বৈঠকে বেশির ভাগ সদস্য দেশ সূচি অপরিবর্তিত রেখে বিশ্বকাপ আয়োজনের পক্ষে ভোট দেওয়ায় কুড়ি-বিশের আসন্ন বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনা কার্যত শেষই হয়ে গেছে। আইসিসি অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য বাংলাদেশকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে বলে ক্রিকইনফো-ক্রিকবাজসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গত কিছুদিনের ঘটনাপ্রবাহ এবং কালকের দীর্ঘ বৈঠকের ধকল পেরিয়ে সেই সময়টি আসলে কতক্ষণের, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারলেন না বিসিবি সভাপতি, ‘শেষে আমি বলেছি, আমাকে একটু সময় দিন আমাদের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য। ৪৮ ঘণ্টা না ২৪ ঘণ্টা বলেছে, সেটি আমার মাথায় নেই।
সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর কী সিদ্ধান্ত জানাবে বিসিবি? সেটি অন্তত মত বদলে ভারতে খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হবে না বলেই মনে হলো আমিনুলের কথায়, ‘মন থেকে বলছি, মুস্তাফিজের ওই ঘটনার পর আমার মনে হয়েছে ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। আমাদের অনেক শত্রু ওখানে আছে।’ তাহলে তো বিশ্বকাপে আর খেলাই হচ্ছে না বাংলাদেশের? আমিনুলের মনে তবু ক্ষীণ আশা। সেটি ‘অলৌকিক’ কিছু ঘটার প্রত্যাশা। নিজেদের তরফ থেকে নয় অবশ্য, “আইসিসির পক্ষ থেকে আমি একটি ‘মিরাকল’-এর প্রত্যাশা করছি।
আইসিসির মনও তো পরিবর্তন হতে পারে।”
আরআই/টিএ