মুম্বই শহরের অন্ধকার গলিপথ, রক্তারক্তি সংঘর্ষ, উন্মত্ত প্রেম আর প্রতিশোধের আগুন সবকিছুকে এক সুতোয় বেঁধে আবারও ফিরলেন পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ। মুক্তি পেয়েছে তাঁর নতুন ছবি ‘ও’ রোমিও’র ট্রেলার, আর প্রথম ঝলকেই স্পষ্ট করে দেয়, এটি কোনও সাধারণ প্রেমের গল্প নয়। বরং প্রেমের আড়ালে ক্ষমতা, হিংসা ও নৈতিক অবক্ষয়ের এক ভয়ংকর যাত্রার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই ছবি।
ট্রেলারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শাহিদ কাপুর। এবার তিনি আর চেনা রোমান্টিক নায়ক নন, বরং নিজেকে নায়ক দাবি করা এক ভয়ংকর অপরাধী চরিত্রে হাজির। রক্তে ভেজা পরিবেশে নির্ভীক ভঙ্গিতে হেঁটে যাওয়া, কখনও মাতাল উন্মাদনা আবার কখনও ঠান্ডা মাথায় খুন সব মিলিয়ে রোমিও ওরফে উস্তারার চরিত্রটি গভীর অস্বস্তি তৈরি করে। শাহিদের চোখের ভাষা, শরীরী ভঙ্গি আর হিংস্রতার বিস্ফোরণ ইঙ্গিত দেয়, এটি তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম বেপরোয়া অভিনয় হতে চলেছে।
এই অন্ধকার জগতের মাঝেই জায়গা করে নেয় প্রেম। তৃপ্তি দিমরির সঙ্গে শাহিদের সম্পর্ক কোনও শান্ত আশ্রয়ের গল্প নয়, বরং আবেগ, আসক্তি ও ধ্বংসের দিকে ধাবিত এক বিষাক্ত বন্ধন। উস্তারা ও আফশার সম্পর্কের টানাপোড়েনই ছবির মূল চালিকাশক্তি। এখানে ভালবাসা মুক্তির রাস্তা নয়, বরং আরও গভীর অন্ধকারে নেমে যাওয়ার সোপান।
ট্রেলারে অবিনাশ তিওয়ারির উপস্থিতি নজর কাড়ে নির্মম প্রতিপক্ষ হিসেবে। বিশেষ করে একটি প্রতীকী দৃশ্যে তাঁর নিষ্ঠুরতা ছবির সহিংস আবহকে আরও তীব্র করে তোলে। অল্প সময়ের জন্য দেখা গেলেও নানা পাটেকরের উপস্থিতি আলাদা করে ছাপ ফেলে। পুলিশের ভূমিকায় বন্দুক তাক করা তাঁর চোখেই স্পষ্ট, উস্তারার জন্য অপেক্ষা করছে ভয়ংকর সংঘাত।
গভীর অন্ধকারের মাঝেই হঠাৎ রঙিন ঝলক এনে দেন দিশা পাটানি। একটি নাচের দৃশ্যে তাঁর গ্ল্যামারাস উপস্থিতি ছবির ভারী আবহের সঙ্গে তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করেছে। অভিনেতা তালিকায় রয়েছেন বিক্রান্ত ম্যাসি, যদিও ট্রেলারে তাঁর চরিত্র রহস্যে ঢাকা। ফরিদা জালাল উস্তারার দিদার চরিত্রে হাজির হয়ে ভবিষ্যৎ বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দেন। পাশাপাশি অরুণা ইরানি ও তামান্না ভাটিয়ার উপস্থিতি ছবির চরিত্রজগৎকে আরও বিস্তৃত করেছে।
এই ছবি প্রযোজনা করেছেন সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা। এটি বিশাল ভরদ্বাজ ও শাহিদ কাপুরের চতুর্থ যৌথ কাজ। এর আগে তাঁদের জুটি দর্শক পেয়েছে একাধিক আলোচিত ছবি। প্রায় আট বছর পর এই পুনর্মিলন ঘিরে প্রত্যাশা তুঙ্গে। ছবির কাহিনির অনুপ্রেরণা এসেছে মুম্বইয়ের অপরাধজগত ঘিরে লেখা এক ননফিকশন গ্রন্থ থেকে, যেখানে বাস্তব এক কুখ্যাত চরিত্রের জীবনের ছায়া স্পষ্ট।
ট্রেলার প্রকাশের পরই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কেউ একে সাহসী ও শিল্পিত নির্মাণ বলছেন, কেউ আবার হিংসাকে অতিরঞ্জিত দেখনদারি বলে কটাক্ষ করছেন। শাহিদের চরিত্রকে ঘিরে তুলনা টানা হচ্ছে তাঁর আগের কিছু আলোচিত চরিত্রের সঙ্গে। দর্শকরা বিভক্ত হলেও এক বিষয়ে সবাই একমত—ট্রেলার কৌতূহল জাগিয়েছে।
ভালোবাসা দিবসের প্রাক্কালে আগামী ফেব্রুয়ারিতে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা ‘ও’ রোমিও’র। প্রেমের দিনে এমন রক্তাক্ত ও উন্মত্ত প্রেমকাহিনি দর্শক গ্রহণ করবেন কি না, সেই প্রশ্নই এখন চলচ্চিত্র মহলের আলোচনার কেন্দ্রে।
এমকে/টিএ