সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোয় খেলার আশা জিইয়ে রাখল হান্সি ফ্লিকের দল। শুরুতে গোল হজমের ধাক্কা সামলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল বার্সেলোনা। স্লাভিয়া প্রাহাকে হারিয়ে সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোয় খেলার আশা জিইয়ে রাখল হান্সি ফ্লিকের দল।
প্রতিপক্ষের মাঠে বুধবার রাতে ৪-২ গোলে জিতেছে লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা।
ভাসিল কুসেইয়ের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, জোড়া গোল করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে নেন ফের্মিন লোপেস। একটু পরই রবের্ত লেভানদোভস্কির আত্মঘাতী গোলে স্কোর হয়ে যায় সমান। দ্বিতীয়ার্ধে দানি ওলমো দুর্দান্ত গোলে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর ব্যবধান বাড়ান লেভানদোভস্কি।
স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়সহ সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ জয়ের পর, গত রোববার লা লিগায় রেয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে যায় বার্সেলোনা। সেই হতাশা পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা দ্বিতীয় জয় পেল তারা। সাত ম্যাচে চার জয় ও এক ড্রয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে আছে বার্সেলোনা। তাদের ওপরের তিন দল ও নিচের চার দলেরও সমান ১৩ পয়েন্ট করে।
প্রথম পর্বে বাকি আর এক রাউন্ড। ৩৬ দলের আসরে শীর্ষ আট দল সরাসরি যাবে শেষ ষোলোয়। নবম থেকে ২৪তম স্থানে থাকা দলগুলো দুই লেগের প্লে-অফ খেলবে শেষ ষোলোর বাকি আট দলের সঙ্গে জায়গা করে নিতে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারেননি বার্সেলোনার তারকা ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল। খেলার ধারার বিপরীতে দশম মিনিটে এগিয়ে যায় স্লাভিয়া। কর্নারে সতীর্থের হেডে দূরের পোস্টে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে পা ছুঁয়ে বল জালে পাঠান চেক ফরোয়ার্ড ভাসিল কুসেই।
ত্রয়োদশ মিনিটে আক্রমণে যায় বার্সেলোনা। রাফিনিয়ার ক্রসে লেভানদোভস্কির হেড ঠেকান স্বাগতিক গোলরক্ষক। ২৯তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে এরিক গার্সিয়ার শটও আটকে দেন তিনি।
৩৪তম মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান লোপেস। ফ্রেংকি ডি ইয়ংয়ের পাস বক্সে পেয়ে স্প্যানিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের কোনাকুনি শট গোলরক্ষকের হাতে লেগে জালে জড়ায়। ৪২তম মিনিটে এগিয়েও যায় বার্সেলোনা। পেদ্রির পাসে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরাল শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন লোপেস।
কিন্তু তাদের সেই স্বস্তি উবে যায় ৪৪তম মিনিটে। কর্নারে প্রতিপক্ষের হেডে বল লেভানদোভস্কির কাঁধে লেগে জালে জড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটে পেদ্রির শট ঠেকান গোলরক্ষক। দুই মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে লোপেসের প্রচেষ্টা তিনি আটকে দেওয়ার পর জালে পাঠান ডি ইয়ং, তবে অফসাইডের কারণে গোল মেলেনি।
৬১তম মিনিটে রুনি বার্দগি ও পেদ্রির জায়গায় মার্কাস র্যাশফোর্ড ও ওলমোকে নামান বার্সেলোনা কোচ। এক মিনিট পর দুর্দান্ত গোলে দলকে এগিয়ে নেন ওলমো। হেডে বল ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেনি স্বাগতিকরা। বক্সের বাইরে থেকে তার জোরাল শটে ওপরের কোণা দিয়ে জালে জড়ায় বল।
৭০তম মিনিটে স্কোরলাইন ৪-২ করেন লেভানদোভস্কি। বক্সের ভেতর বাঁ দিক থেকে র্যাশফোর্ডের কাট-ব্যাক ছয় গজ বক্সে পোলিশ তারকার ঊরুতে লেগে আটকে যায়, এরপর গোলরক্ষকের সামনে থেকে টোকায় জালে পাঠান লেভানদোভস্কি। শেষ দিকে রাফিনিয়া ও র্যাশফোর্ডের প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি স্লাভিয়ার গোলরক্ষক।
এসএস/টিএ