শীতকালে অনেকেই একটি সমস্যায় ভুগে থাকেন। আর সেটি হচ্ছে ফ্রিজি হেয়ারের সমস্যা। তেল মেখে, কন্ডিশনার লাগিয়েও খুব একটা উপকার মেলে না এই সমস্যায়। অনেকে প্রতি মাসে পার্লারে গিয়ে স্পাও করেন।
তাও চুলের হাল ফেরে না। এত ঝামেলার মধ্যে না গিয়ে রান্না ঘরে থাকা ঘিয়ের সাহায্য নিতে পারেন। প্রতিদিন ঘি মাখলেই পরিবর্তন আসতে পারে চুলের অবস্থায়।
আর্দ্রতা অভাবে চুলে শুষ্ক ভাব বাড়ে।
তার সঙ্গে দূষণ, ঘন ঘন চুলে স্টাইলিং করা, চুলের ঠিকমতো যত্ন না নেওয়া—এগুলো চুলকে রুক্ষ করে তোলে। তার ওপর শ্যাম্পুতে যদি সালফেট বা ক্ষার থাকে, পানিতে যদি মিনারেলের পরিমাণ বেশি থাকে, তাহলে ফ্রিজি হেয়ারের সমস্যা আরো বাড়ে। আর এই সমস্যা দূর করে দিতে পারে এক চামচ ঘি।
ঘিয়ের মধ্যে থাকা ফ্যাটি এসিড ও ভিটামিন এ চুলের শুষ্ক ভাব দূর করে দেয়।
সেই সঙ্গে চুলের টেক্সচারও উন্নত করে। ঘিয়ের মধ্যে ময়েশ্চারাইজিং উপাদান রয়েছে। এটি আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এমনকি খুশকির সমস্যাও দূর করে দেয়।
শুষ্ক ও রুক্ষ চুলে স্প্লিট এন্ডের সমস্যা খুব কমন।
সেই সমস্যাও দূর করে দেয় ঘি। শুষ্ক চুলে এক ফোঁটা জেল্লা থাকে না। সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি ও দূষণ চুলের জেল্লা কেড়ে নেয়। এই জেল্লা ফিরিয়ে আনতেও সহায়ক ঘি। কিন্তু তেলের মতো করে ঘি মাথায় মেখে ফেললেই চলবে না। মানতে হবে কিছু নিয়মও।
চুলের যত্নে কিভাবে ঘি মাখবেন
২-৩ সপ্তাহ টানা ঘি মাখলে তবেই চুলের হাল ফিরতে পারে। কিন্তু রাতভর চুলে ঘি মাখার দরকার নেই। এতে চুলে আরো ময়লা জমতে পারে। এর চেয়ে গোসল করার ৩০ মিনিট আগে চুলে ঘি মাখুন। সপ্তাহে ৩-৪ দিন টানা এক মাস মাখতে পারেন। এতেই মনমতো ফল পাবেন।
চুলে সরাসরি ঘি মাখতে পারেন। ঘি হালকা গরম করে নিয়েও মাখা যায়। এ ছাড়া নারকেল তেলের সঙ্গে ঘি মিশিয়ে মাখলে দারুণ উপকার মেলে।
লেবুর রস ও আমন্ড অয়েলের সঙ্গে ঘি মিশিয়েও চুলে মাখতে পারেন। খুশকির সমস্যা দূর করতে এই টোটকাও দারুণ কার্যকর। এ ছাড়া অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ঘি মিশিয়েও মাখা যায়।
এমকে/এসএন