চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে পুরো মাদারীপুর শহর। সরস্বতী পূজাকে ঘিরে তিনদিনের আয়োজনে শহরের অলিগলি থেকে পাড়া-মহল্লা-সবখানেই আধুনিক লাইটিংয়ে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আলো। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত শুধু আলোকসজ্জা দেখতেই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। এরই মধ্যে পূজার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আয়োজক কমিটিগুলো। তবে নিরাপত্তার কারণে এবার কোনো র্যালি বা শোভাযাত্রা হচ্ছে না।
সরজমিনে দেখা যায়, সরস্বতী পূজাকে কেন্দ্র করে মাদারীপুর শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ। কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চোখ ধাঁধানো আলোয় মোড়ানো পাড়া-মহল্লা ও শহরের অলি-গলি। মনোমুগ্ধকর এই আলোকসজ্জা দেখতে শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষ ছুটে আসছেন।
বিদ্যা ও জ্ঞান বৃদ্ধির প্রতীক দেবী সরস্বতীর পূজা শুধু মণ্ডপেই নয়, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরাও আলাদাভাবে আয়োজন করছেন। জানা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও মাদারীপুর পৌর এলাকার মধ্যে ৬৫টি পূজা মণ্ডপে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধর্মীয় এ আয়োজন আগামী রোববার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
এ উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা থেকেও হাজারো দর্শনার্থী মাদারীপুরে আসছেন। তবে প্রতিবছর পূজার শেষদিনে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হলেও এবার নিরাপত্তার স্বার্থে তা বাতিল করা হয়েছে।
দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য লালনগীতি, জারি গান, কৌতুক অভিনয়, নৃত্য, জাদু প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পূজা উদযাপন পরিষদ। মাদারীপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিদ্যুৎ কান্তি বাড়ৈ জানান, প্রায় দুইশ বছর ধরে পূজার শেষদিনে র্যালির আয়োজন হয়ে আসছে, যেখানে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়। তবে এবার নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে র্যালি না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনদিনের অনুষ্ঠান আগের মতোই চলবে, তবে সব আয়োজন এবার মণ্ডপের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
উৎসব শান্তিপূর্ণ রাখতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে পুলিশ। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সরস্বতী পূজাকে ঘিরে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পাশাপাশি বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
এসকে/এসএন