ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তৃণমূলের রাজনীতিবিদদের ‘বেহেশতের টিকিট’ এর নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়টি কিছুদিন পরপরই সামনে আসছে। এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। এবার সেই বিষয়টিকে এক ধরনের প্রতারণা বলে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি অবশ্য জামায়াতের নাম উল্লেখ করেননি। তিনি জানান, এই টিকিট বিক্রি করে তারা মানুষকে ঠকাচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির প্রথম নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। এই জনসভার মাধ্যমে নির্বাচনি যাত্রা শুরু করেছেন তারেক রহমান।
সেখানে তিনি বলেন, ‘বেহেশতের মালিক কে? আল্লাহ। দোযখের মালিক কে? আল্লাহ। কাবার মালিক আল্লাহ, এই পৃথিবীর মালিকও আল্লাহ। আপনারা সাক্ষী দিলেন। যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কি অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? না! নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দেব ওই দেব বলছে, টিকিট দেব বলছে। যেটার মালিক মানুষ না, সেটার (দেওয়ার) কথা যদি সে বলে, তাহলে এক তো শিরক হচ্ছে, সবকিছুর ওপরে আল্লাহর অধিকার। তারা আগেই তো আপনাদের ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পরে তাহলে কেমন ঠকান ঠকাবে বোঝেন এবার। শুধু ঠকাচ্ছেই না, যারা মুসলমান তাদের শিরক করাচ্ছে, নাউজুবিল্লাহ।’
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সেই রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রিয় ভাই ও বোনেরা, কেউ কেউ বলে, ওমুককে দেখেছি, তমুককে দেখেছি, এবার একে দেখেন। ১৯৭১ সালে লাখো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি স্বাধীন হয়েছে। সেই মাতৃভূমি স্বাধীন করার সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি। যাদের ভূমিকার কারণে এদেশের লক্ষ লক্ষ ভাইয়েরা শহীদ হয়েছে, এদেশের লক্ষ লক্ষ মা বোনেদের সম্মানহানি হয়েছে, তাদের তো এদেশের মানুষ দেখেই নিয়েছে!’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই কুফরির বিরুদ্ধে, এই হঠকারির বিরুদ্ধে, এই মিথ্যার বিরুদ্ধে, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদেরকে টেইক ব্যাক বাংলাদেশে থাকতে হবে। আমরা দেশকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করেছি। এখন মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, শুধু কথা বলার অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করলে হবে না। মানুষকে স্বাবলম্বী করে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যেন ভালোভাবে খেয়ে পরে বাঁচতে পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি মানুষ যাতে নিরাপদে রাস্তায় চলতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। সেটাই হচ্ছে টেইক ব্যাক বাংলাদেশ। আমরা বিগত ১৫ বছর দেখেছি, অমুককে বলে এসেছি তমুককে ক্ষমতায় রাখার জন্য। সেজন্যেই বলছি, দিল্লি নয়, আমরা দেখেছি যারা একাত্তর সালে ছিল, তারা কাদের সাথে লাইন দিয়েছিল। যাদের কথা একটু আগে বললাম, যারা মিথ্যা কথা বলে মানুষকে, আমরা দেখেছি তাদের আস্তানা কোথায়। সেজন্যেই বলেছি, যেমন দিল্লি নয়, তেমন পিন্ডিও নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
এমআই/টিকে