স্মৃতি মান্ধানার সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন সুরকার ও পরিচালক পলাশ মুচ্ছল। আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে তাঁর নামে এবার পুলিশি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, স্মৃতির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও এক মারাঠি ছবির প্রযোজকের কাছ থেকে প্রায় চল্লিশ লক্ষ টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন পলাশ।
জানা গেছে, ওই প্রযোজকের সঙ্গে যৌথভাবে ‘নাজারিয়া’ নামে একটি ছবির কাজ করেছিলেন পলাশ। ছবিটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনার দায়িত্বও ছিল তাঁর ওপর। প্রযোজকের অভিযোগ, সিনেমার কাজ শেষ হওয়ার পর ছবিটি ওটিটি মাধ্যমে মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও সে বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেননি পলাশ। বরং ধাপে ধাপে ডিজিটাল মাধ্যমে নেওয়া বিপুল অঙ্কের টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে কোনো কথাবার্তাতেই রাজি হননি তিনি।
প্রযোজকের দাবি, ছবিটি বিক্রি হলে বারো লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি অভিনয়ের একটি চরিত্র দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন পলাশ। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি। টাকা ফেরতের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও পরে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন পলাশ। বাধ্য হয়েই শেষ পর্যন্ত থানার দ্বারস্থ হন ওই প্রযোজক।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মহারাষ্ট্রের সাংলি থানায় পলাশ মুচ্ছলের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। আরও জানা যায়, এই প্রযোজকের সঙ্গে পলাশের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন স্মৃতি মন্ধানার বাবা। সেই সূত্রেই কাজের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙাকে কেন্দ্র করে নানা অভিযোগে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন পলাশ। দুই হাজার পঁচিশ সালের নভেম্বরে বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হলেও শেষ মুহূর্তে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। সেই সময় থেকেই একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। সম্প্রতি নতুন ছবির কাজ শুরুর ঘোষণা করেছিলেন পলাশ। ঠিক তার মধ্যেই এই অভিযোগ নতুন করে তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনকে আরও জটিল করে তুলল বলে মনে করছেন অনেকে।
এখনো পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে পলাশ মুচ্ছলের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ, আর সেই তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিনোদন মহল।
পিআর/টিএ