বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে পারিবারিক বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। দুই পক্ষের স্ত্রীর মধ্যে প্রকাশ্য তরজার মধ্যেই বুধবার পুলিশের দ্বারস্থ হন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় এবং মেয়ে নিয়াসা চট্টোপাধ্যায়। বাবাকে নিয়ে এমন বিতর্কের কেন্দ্রে পড়ে কেমন আছেন নিয়াসা, সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে নানা মহলে।
পঁচিশ বছরের দাম্পত্য এবং উনিশ বছরের মেয়ের কথা প্রথম দিন থেকেই তুলে ধরছেন অনিন্দিতা। হিরণের দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন নিয়াসা। সামাজিক মাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেও নিজের অবস্থান বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। হঠাৎ বদলে যাওয়া এই পরিস্থিতি কীভাবে সামলাচ্ছেন নিয়াসা, তা জানতে খোঁজ নেওয়া হয় পরিবারের তরফে।
বর্তমানে মধ্য কলকাতার একটি নামী কলেজে মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী নিয়াসা। তবে এই পরিস্থিতিতে নিয়মিত কলেজে যেতে পারছেন না তিনি। অনিন্দিতা জানান, বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে থানায় যেতে হওয়া যে কোনও মেয়ের কাছেই অত্যন্ত যন্ত্রণার। তার উপর সাংবাদিকদের ভিড়, ক্যামেরার ঝলকানি এবং একের পর এক প্রশ্ন নিয়াসাকে আরও মানসিক চাপে ফেলেছে। ফলে আপাতত কলেজে যাওয়া বন্ধ রয়েছে। যদিও তাঁর বন্ধুরা সারাক্ষণ পাশে রয়েছেন, ফোন করে খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং মানসিকভাবে শক্ত থাকার সাহস দিচ্ছেন।
অনিন্দিতার কথায়, সামনেই কয়েক দিনের কলেজ ছুটি রয়েছে। ছুটি শেষ হলেই আবার পড়াশোনায় ফিরতে চায় নিয়াসা। এই ঘটনার জেরে মেয়ের পড়াশোনায় কোনও ক্ষতি হোক, তা তিনি কোনওভাবেই চান না। পরিবারের লক্ষ্য এখন একটাই, এই কঠিন সময়েও নিয়াসার ভবিষ্যৎ যেন অনিশ্চয়তার মুখে না পড়ে।
বুধবার থানার বাইরে বেরিয়ে আবেগ সামলাতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিয়াসা। সে সময় তিনি প্রকাশ্যে বলেন, হিরণ চট্টোপাধ্যায় বাবা এবং স্বামী হিসেবে ব্যর্থ। তবে এত বিতর্কের মাঝেও এখনও নীরব হিরণ। তাঁর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে এখনই মুখ খুলতে রাজি নন অনিন্দিতা। তাঁর দাবি, বিষয়টি পুরোপুরি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তাই এখন সব প্রশ্নের উত্তর আদালতের পথেই মিলবে বলে মনে করছেন তিনি।
এমকে/টিএ