শূন্য থেকে ৫ বছরের সব শিশুর বিনা পয়সায় চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শূন্য থেকে ৫ বছরের সব শিশুর বিনা পয়সায় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে, ৬০ থেকে ৬৫ বছরের বৃদ্ধদের বিনা পয়সায় চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করা হবে। আর মাঝামাঝি রয়েছেন যারা নিজেদের চিকিৎসা খরচ নিজেরা চালাতে পারবে, তারা পারবেন। আর যারা পারবেন না তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হবে। আর এসব কিছু করা হবে জনগণের দেওয়া ভ্যাট, ট্যাক্স, করের টাকায়।কারণ আমরা এত টাকা কোথায় পাব।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকাল সোয়া ৩টায় গোর-এ শহীদ ময়দানের দক্ষিণ অংশে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে হেলিপ্যাড মাঠে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দিনাজপুরে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, দিনাজপুরবাসীর সঙ্গে সৎভাইয়ের মতো আচরণ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন করা হলেও প্রাচীন পৌরসভা হওয়ার পরও দিনাজপুরকে সিটি করপোরেশন করা হয়নি। আপনাদেরকে বিশ্বস্ততার সঙ্গে বলছি জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে দিনাজপুরকে সিটি করপোরেশন করা হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব, এই দিন শেষ, এবার যদি আমার ভোট অন্য কেউ দিতে চায় তাহলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। আমার ভোট আমি দেব, যাকে পছন্দ তাকে দেব।

জামায়াত আমির বলেন, অনেক জেলায় গ্যাস সুবিধা থাকলেও দিনাজপুরে নেই। এ জেলায় কয়লা পাওয়া গেছে, এই কারণে গ্যাস পাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বিগত সময়ে গ্যাস নিয়ে বৈজ্ঞানিক কোনো জরিপ চালানো  হয়নি। অনেক দেশে স্বাধীনতার মাত্র ২৫ বছরে কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ এই অঞ্চলের মানুষ হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ফসল ফলাচ্ছেন। আবার সঠিক মূল্য পান না।

আমরা ক্ষমতায় গেলে আম, লিচু, টমেটোসহ কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রসেসিং কারখানা স্থাপন করব। সিটি করপোরেশন হলে ও কারখানা স্থাপন করা হলে কৃষক সুবিধামতো সময়ে তার পণ্য বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য পাবেন। কর্মসংস্থান হবে। উত্তরাঞ্চল হবে কৃষির রাজধানী। 

তিনি বলেন, দিনাজপুরে চাঁদাবাজি হয় না। এ সময় উপস্থিত জনগণ চিৎকার করে চাঁদাবাজি হয়। তখন তিনি বলেন, ফুটপাতেও চাঁদাবাজি হয়। এটা আমাদের জন্য লজ্জার। আমরা চাঁদাবাজি করি না, করব না, আমরা কাউকে চাঁদা নিতেও দেব না। দুর্নীতি করব না, করতেও দেব না একথা বলাতে তারা বিপদে পড়েছেন। 

আমির বলেন, গুজব ছড়ানো হচ্ছে, আমরা ক্ষমতায় গেলে নাকি মায়েদেরকে ঘরে বন্দি করে রাখব। আমরা বলছি নারীরা ঘরে-বাইরে কর্মস্থলে কোথাও নিরাপদ নয়। আমরা ক্ষমতায় গেলে সব ক্ষেত্রে নারীদের জন্য নিরাপদ রাখব। 

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ ও বিজয়ী হওয়া নিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীরা মনে করেছে তারা নারী শিক্ষার্থীদের কাছেই নিরাপদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় মাস হয়ে গেছে চাঁদাবাজি, মাদক, সন্ত্রাস নেই।

তিনি বলেন, জনগণের জন্য, জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। আমরা কিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেব না। সরকার গঠন করলে প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল করা হবে। দিনাজপুরে মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালকে ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করা হবে। প্রয়োজনে স্পেশালাইজড হাসপাতাল করা হবে। সব জেলায় মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করা হবে। 
তিনি বলেন, আসুন আমরা পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ ভোট দিই। ভোটে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, অনিয়ম ও ইঞ্জিনিয়ারিং করবেন না, করলে কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। কারণ মানুষ বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। ভোটের জন্যই এত আন্দোলন, এত ত্যাগ।

দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, ছয়টি আসনের প্রার্থী ও জেলার নেতৃবৃন্দ। 

কেএন/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিরল খনিজ থাকার দাবি সৌদি আরবের Jan 23, 2026
img
ন্যায়ভিত্তিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গঠনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিতে হবে: এম সাখাওয়াত হোসেন Jan 23, 2026
img
নিষেধাজ্ঞা এড়াতে টিকটকের যৌথ চুক্তি, এখন থেকে ৮০ শতাংশ মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের Jan 23, 2026
img
পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণে ইসির নানা নির্দেশনা জারি Jan 23, 2026
img
রাজধানীর ভাটারায় ভয়াবহ আগুন Jan 23, 2026
img
মাখোঁর ‘টপ গান’ লুকে সানগ্লাস, নির্মাতা কোম্পানির শেয়ারের বাজারমূল্য বাড়ল ৪ মিলিয়ন ডলার Jan 23, 2026
img
অন্তত পাঁচটি বছর আমাদের পরীক্ষা করে দেখুন: জামায়াত আমির Jan 23, 2026
img
এমন কোনো কাজ করিনি যে, শেখ হাসিনার মতো পালাতে হবে: প্রেস সচিব Jan 23, 2026
img

চরমোনাই পীর

তাঁবেদারির কারণে ভারত বাংলাদেশকে অঙ্গরাজ্য মনে করে আচরণ করছে Jan 23, 2026
img
কেউ নিখুঁত নয়, সবাই আলাদা, এটাই আমাদের সৌন্দর্য: ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন Jan 23, 2026
img
বার্সা শিবিরে যোগ দিল ১৫ বছর বয়সী বিস্ময় বালক ইব্রিমা টুনকারা Jan 23, 2026
img
দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান Jan 23, 2026
img
জামায়াতের প্রচারে বিএনপির ২ নেতা, দলে তোলপাড় Jan 23, 2026
img

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে

রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ বাংলাদেশের Jan 23, 2026
img
যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে সুপার সিক্সে বাংলাদেশ Jan 23, 2026
img
এবারের বিপিএলে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড তামিমের Jan 23, 2026
img
ডিআরসির কাছে করা বিসিবির আপিল বাতিল, কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন জয় শাহ Jan 23, 2026
img
কুড়িগ্রামের সীমান্ত থেকে ৪২ লাখেরও বেশি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ Jan 23, 2026
img
অসুস্থ অবস্থাতেই বিপিএল মাতালেন তানজিন তিশা Jan 23, 2026
img
ব্যাংক ডাকাত-দুর্নীতিবাজদের জনগণ ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ Jan 23, 2026