১০ দলীয় জোট বিজয়ী হলে সুশাসন নিশ্চিত করা হবে : আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ১০ দলীয় জোট বিজয়ী হলে সুশাসন নিশ্চিত এবং সংস্কারের পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে। বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে একটি দল আওয়ামী লীগের ভূমিকায় জাতির সামনে নিজেদের উপস্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে আমরা আওয়ামী লীগের যেই যেই জুলুম দেখেছি, বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে ঠিক সেই সেই জুলুমের উপাদানগুলো একটি দলের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। তাদের নেতাকর্মীদের দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজিতে জাতি অতিষ্ঠ। এবারের নির্বাচন নির্ধারিত করবে আগামীর বাংলাদেশে দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, গুম-খুন চলবে কি-না।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ঢাকা-১০ আসন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত তারুণ্যের উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে আসিফ মাহমুদ বলেন, বিগত ৩টি প্রহসেন নির্বাচনের কমিশনারদের ছাত্র-জনতা যেভাবে জুতাপেটা করে পুলিশে সোপর্দ করেছে আবারও যদি বাংলাদেশে কোনো প্রহসনের নির্বাচন হয় তবে ছাত্র-জনতা চুপ করে বসে থাকবে না। তাই বর্তমান কমিশনকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা নিরপেক্ষ থেকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করবে নাকি প্রহসনের নির্বাচন করে হুদা-আউয়ালের পরিণতি ভোগ করবে।

তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি ঢাকা-১০ আসনের জনগণ আর কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ নেতৃত্ব গ্রহণ করবে না, মেনে নেবে না। পরিবর্তনের লক্ষ্যে ঢাকা-১০ আসনের জনগণ ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকারকে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে। তিনি নিজে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হিসেবে জসীম উদ্দীন সরকারের ওপর আস্থা রাখার ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়দেরও জসীম উদ্দীন সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকার বলেন, বিগত ১৫ বছর স্বৈরাচারের জুলুম নির্যাতনের অবসান ঘটে চব্বিশের ৫ আগস্ট। স্বৈরাচার এমনি-এমনি চলে যায়নি। স্বৈরাচারকে বিদায় করতে জুলাই আন্দোলনে দুই হাজারের অধিক ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছে। পঞ্চাশ হাজারের অধিক আহত-পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। ছাত্র-জনতার অর্জিত নতুন বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। জনগণ সেই নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। কিন্তু সেই নির্বাচন কোনোরূপ প্রহসনের নির্বাচন হলে জনগণ মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, সব দল ও প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। কারো জন্য প্রশাসনিক সুবিধাসহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা দিবেন আবার কাউকে কোনো সহযোগিতা করবেন না এমনটি হতে পারে না। এমনটি হলে নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

জসীম উদ্দীন সরকার বলেন, ১০ টাকা কেজি চাল আর ঘরে-ঘরে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা দখল করলেও কেউ ১০ টাকা কেজিতে চাল পায়নি, ঘরে-ঘরে মানুষ চাকরি পায়নি। একইভাবে একটি দল এখন নানানরকম কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার ধান্দায় আছে। ১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে ভাতা দেবে না, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। ভাতা নামক দয়া ভিক্ষায় জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাসী নয়। জামায়াতে ইসলামী যুবসমাজকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলবে। আগামীতে যুবকদের হাত ধরে এ দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। বাংলাদেশের শতকরা ৪০ ভাগ যুবককে বেকারত্বের হাত থেকে মুক্ত করা হবে।

নিজ নির্বাচনী আসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা-১০ সংসদীয় এলাকায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, দখলবাজ, কিশোর গ্যাং, ফুটওভার ব্রিজ সহ নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। তিনি নির্বাচিত হলে নাগরিক কমিটি গঠন করে সব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে জানান। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি ব্যত্যয় করেন জসীম উদ্দীন সরকার।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা-১০ আসন কমিটির পরিচালক ও মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক নুর নবী মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা-১০ আসন কমিটির সহকারী পরিচালক শেখ শরীফ উদ্দিন আহমেদ, জুলাই আন্দোলনে শহীদ মোবারক হোসেনের পিতা রমজান আলী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী পূর্ব শাখার সেক্রেটারি এমদাদুল হক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পশ্চিম শাখা সভাপতি খালিদ হাসান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা কলেজ শাখার সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানি প্রমুখ।

আরআই/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
বিপিএল ফাইনাল: কার হাতে গেল কোন পুরস্কার Jan 24, 2026
img
চাঁদপুরে প্রস্রাবের কথা বলে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালালেন চিকিৎসাধীন আসামি Jan 24, 2026
img
ফরিদপুরে কারখানায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ Jan 24, 2026
img
চাঁদাবাজরা সবচেয়ে বড় জালেম : সিরাজুল মামুন Jan 24, 2026
img
বরিশালে তারেক রহমানের সমাবেশস্থল পরিদর্শনে বিএনপি নেতারা Jan 24, 2026
img
শেখ মুজিবুর রহমান জীবিত থাকতেই ১৯৭১ সালের রাজাকার ইস্যু সমাধান করে গেছেন: গোলাম পরওয়ার Jan 24, 2026
img
দিল্লিতে প্রথমবারের মতো প্রেস কনফারেন্সে যুক্ত হলেন শেখ হাসিনা Jan 24, 2026
img
বিপিএলের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়ে শরিফুলের বার্তা Jan 24, 2026
img
রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উপস্থাপন, আইসিজেতে মিয়ানমারের দাবির তীব্র প্রতিবাদ বাংলাদেশের Jan 24, 2026
img
ইন্ডিয়ার মাল ইন্ডিয়া চলে গেছে, এখন পাকিস্তানি মাল আসবে নাকি : সালাহউদ্দিন Jan 24, 2026
img
নীলফামারী-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী তিন প্রার্থীকে শোকজ Jan 24, 2026
img
চাঁদাবাজ ছাড়া সবাইকে ১০ দলে আসার আহ্বান হান্নান মাসুদের Jan 24, 2026
img

বিপিএল ২০২৬

ম্যাচসেরা তানজিদ, টুর্নামেন্টসেরা শরিফুল Jan 23, 2026
img
কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতাকে গুলি, ২৪ ঘণ্টা পরও হয়নি মামলা Jan 23, 2026
img
শিরোপা জয়ের পর প্রয়াত বাবাকে স্মরণ সাকলাইনের Jan 23, 2026
img
লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু Jan 23, 2026
img
কিশোরগঞ্জে বিএনপি-যুবদল সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০ Jan 23, 2026
img
নোয়াখালীতে জামায়াতে যোগ দিলেন ‘চরমোনাই-বিএনপির’ ৩৭ জন Jan 23, 2026
img
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলায় একাধিক সংকটে পড়বে বাংলাদেশ Jan 23, 2026
img
সিদ্ধেশ্বরীতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গণসংযোগে ডিম নিক্ষেপ Jan 23, 2026