নিজের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার জরিপ প্রকাশ হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত একটি জনমত জরিপকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির যৌথ জরিপ প্রকাশের পর এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প।
এ সময় তিনি বলেন, এ ধরনের ‘ভুয়া জরিপ’কে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত। ওই জরিপে দেখা গেছে, ৭৯ বছর বয়সী এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থন মাত্র ৪০ শতাংশ। দ্বিতীয় মেয়াদের এক বছর পার হতে না হতেই একাধিক জরিপে তার জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার যে চিত্র মিলছে, সেটির সঙ্গেও এই ফলাফল মিলে গেছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘টাইমস–সিয়েনা জরিপটি... আমার মামলায় দ্য ফেলিং নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে যুক্ত হবে’। তিনি আরও বলেন, ‘সব উগ্র বামপন্থি মিথ্যা আর অন্যায়ের জন্য তাদের পুরোপুরি দায়ী করা হবে!’
এমনকি হুমকি আরও বাড়িয়ে ট্রাম্প লেখেন, ‘ভুয়া ও প্রতারণামূলক জরিপ প্রকাশ করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত।’ অবশ্য এর আগেও ট্রাম্প বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে একাধিক মানহানির মামলা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিবিসি, সিএনএন, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সিবিএস ও এবিসি। এর মধ্যে কয়েকটি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে বিপুল অংকের অর্থের বিনিময়ে সমঝোতার মাধ্যমে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি প্রথম নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা করেন। অভিযোগ ছিল, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বোচনের আগে নির্বাচনি প্রচারণা ও তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পত্রিকাটি ভুয়া খবর প্রকাশ করেছে। যদিও ফেডারেল এক বিচারক সেই মামলা খারিজ করে দেন। পরে অক্টোবরে সংশোধিত আকারে আবার মামলা করা হয়।
নিউইয়র্ক টাইমস তখন ওই নতুন মামলাকে ‘স্বাধীন সাংবাদিকতা দমন করার চেষ্টা’ এবং ‘ভয় দেখানোর কৌশল’ বলে মন্তব্য করেছিল। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত টাইমস–সিয়েনা জরিপে দেখা গেছে, অর্থনীতি পরিচালনা ও অনিয়মিত অভিবাসন দমনে অভিযানের কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আরও কমছে।
মূলত টাইমস–সিয়েনা জরিপকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নির্ভুল ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক জরিপগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। সর্বশেষ জরিপটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এতে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে জিততে সহায়তা করা জোট ভেঙে পড়ার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
জরিপে বলা হয়, তরুণ ও অশ্বেতাঙ্গ ভোটাররা ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কামালা হ্যারিসের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে ট্রাম্পকে জিতিয়েছিলেন। তবে তারা এখন ট্রাম্পের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ফলে ট্রাম্প এখন আগের মতোই মূলত বয়স্ক ও শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
সূত্র: ডন
এবি/টিকে