যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সম্পদ সরানো শুরু করেছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এক মার্কিন কর্মকর্তা শাফাক নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, অঞ্চলটির ভেতরেই কিছু মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জামের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। তবে এই পদক্ষেপের আওতায় ইরাক অন্তর্ভুক্ত নেই। তিনি বলেন, আমরা কোন সম্পদ কোথায় মোতায়েন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব না।
তার মতে, এ পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে প্রয়োজনীয় ‘বিকল্প অপশন রাখা’।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১৯টি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে আটটি স্থায়ী ঘাঁটি রয়েছে ইরাক, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, জর্ডান ও মিসরে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০-৫০ হাজার সেনা মোতায়েন ছিল।
সাম্প্রতিক এই পুনর্বিন্যাসের পেছনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা রয়েছে। ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়নে রিয়াল ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, এসব ঘটনায় প্রায় ৪ হাজার মানুষ নিহত এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতার কারণে এসব তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে প্রকাশ্য আন্দোলন কমে এসেছে এবং ট্রাম্পের বক্তব্যের সুরও কিছুটা নরম হয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, বিদেশি শক্তিগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিরতা উসকে দিতে এসব ঘটনার পেছনে কাজ করেছে।
এমআই/এসএন