জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে গর্বের বাংলাদেশ বানাবো। বেকার ভাতা দেবো না, তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। নারীদেরকে রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগ্যতার ভিত্তিতে মর্যাদাপূর্ণ কাজ তুলে দিতে চাই। আমরা দেশ ও জাতিকে আর টুকরো হতে দেবো না।
গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে রংপুর মহানগরীর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতির কথা বলেন।
সরকার গঠন করতে পারলে উত্তরবঙ্গকে জীবন্ত করতে প্রথমে কোদালের কোপ দিয়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিস্তাকে জীবন্ত করার ঘোষণা দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, তিস্তা, করতোয়াসহ সব নদী আল্লাহর দান। বিশাল আমানত। কিন্তু দশকের পর দশক এই নদীগুলোর প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। এগুলোকে জীবন দেওয়া হয়নি। বাজেট বরাদ্দ হয়েছে। নদীর বালু উপরে উঠে না। টাকা পকেটে-পেটে চলে গেছে।এসব এখন নদী নয়, বিশাল মরুভূমি। এই নদীর জীবন ফেরাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা নদী জীবন ফিরে পেলে উত্তরবঙ্গ জীবন ফিরে পাবে। তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নাই। কার ভালো লাগলো, কী লাগলো না- এগুলা দেখার আমাদের সময় নাই। আল্লাহ যদি আমাদের দায়িত্ব দেন, আমরা কথা দিচ্ছি উত্তরবঙ্গে সর্বপ্রথম তিস্তায় কোদালের কোপ দিবো ইনশাল্লাহ। তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ। এই তিস্তাকে জীবন দেওয়ার মাধ্যমে পুরো উত্তরবঙ্গকে আমরা জীবন্ত করে তুলবো ইনশাল্লাহ। এখানে তিস্তা মহাপরিকল্পনা যখনই বাস্তবায়ন হবে, তখন অনেকগুলো উন্নয়নের দুয়ার খুলে যাবে।
ক্ষমতায় গেলে দেশকে বাংলাদেশ বানানো হবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশকে ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। অনেকে বলে- এটার মডেল কী হবে, এটা কি ইরান হবে, না আফগানিস্তান হবে, না পাকিস্তান হবে। আমরা বলি- এটা বাংলাদেশ হবে। আর যদি মডেল বলেন, তাহলে দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষিত শাসক যেটা আল্লাহর নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) বিশ্ববাসীকে উপহার দিয়েছিলেন। যেখানে সকল ধর্মবর্ণের মানুষের অধিকার নিশ্চিত হয়েছিল। সেই মদিনার মডেল আপনি বলতে পারেন। এর বাইরে আমাদের কাছে আর কোনো মডেল নাই ভাই।
তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশ আফগান বানাতে চাই না, ইরান বানাতে চাই না, পাকিস্তান বানাতে চাই না। অন্য কোনো দেশ বানাতে চাই না। আমরা প্রিয় গর্বের বাংলাদেশকে গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে বানাতে চাই।
এমআর/টিএ